এতিমখানার বারান্দা ধসে অর্ধশত ছাত্র আহত
বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পর্কে শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনা চলছিল। হঠাৎ দোতলার বারান্দার মেঝে ধসে প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক আহত হয়েছেন।
শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি নেদায়ে ইসলামের আল-আমিন শিশু সদন এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা সবাই এতিমখানার ছাত্র। তাদের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিক্ষক মুহাম্মদ হুসাইন বলেন, ‘প্রতিবছর ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর এতিমখানার ছাত্রদের একটি দল জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অংশ নেয়। এর প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ছাত্ররা আমার কথামতো পুরাতন ভবনে আমার কক্ষের সামনে উপস্থিত হয়। আলোচনার একপর্যায়ে হঠাৎ করে ছাত্রদের নিয়ে ভবনটির বারান্দার মেঝের একটি অংশ ধসে পড়ে।’
স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। মতলব উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ ও চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ১২ জনকে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার রাতেই জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এতিমখানার এক শিক্ষার্থী বলে, ‘শিক্ষকের সঙ্গে কুচকাওয়াজের প্রস্তুতি মিটিং চলছিল, হঠাৎ করে একটা শব্দ হয়। শিক্ষক মনে করেন, কেউ নিচে থেকে ঢিল ছুড়েছে। তিনি বলে ওঠেন, কে ঢিল মারল? এর কিছুক্ষণ পরই বিকট শব্দে ধসে পড়ল।’
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, এ ঘটনার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে দায়ী। তাদের উদাসীনতা, অবহেলা ও দলাদলির কারণে তারা মাদ্রাসাটির কোনো খোঁজখবরই রাখছে না। জরাজীর্ণ ভবনগুলো অতিসত্বর ভেঙে ফেলে পুনরায় নির্মাণ করা উচিত।’ এ সময় এ ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

হাবিবুর রহমান খান, চাঁদপুর