‘গুলশান পার্কে আতিকের নির্বাচনী মঞ্চ’, ইসিতে অভিযোগ তাবিথের
আসন্ন উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতীক পাওয়ার আগেই নির্বাচনী প্রচার চালানোর’ লিখিত অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।
আজ শনিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের ইটিআই ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেমের কাছে তাবিথ আউয়ালের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগটি তাঁর প্রতিনিধি মো. জুলহাস উদ্দিন জমা দিতে আসেন।
সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে আতিকুল ইসলামকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
অভিযোগপত্রে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আজ শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরোশন নির্বাচন-২০২০ মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ঢাকা উত্তর নির্বাচনী এলাকার মধ্যে গুলশান-১ এলাকার গুলশান পার্কে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে একটি নির্বাচনী মঞ্চ করে, মাইক এবং সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে নিজের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন ও কর্মীদেরকে ভোটারদের কাছে যাওয়ার জন্য দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন; যা সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর স্পষ্ট লঙ্ঘন ও গর্হিত অপরাধ বটে।’
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বাস দিয়েছিল যে, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিদ্যমান থাকবে এবং নির্বাচন আচরণবিধি সব প্রার্থীর জন্য সমভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং তা তদারকির জন্য মাঠ পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন থাকবে।’
চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘দুঃখের বিষয় আজ আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ লংঘন করে একটি নির্বাচনী জনসভা করলেন, কিন্তু আপনার অধীনস্ত কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এই বিধিমালা লঙ্ঘকারী প্রার্থীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টাও করেননি। আমার এই অভিযোগের সপক্ষে কিছু স্থিরচিত্র সংযোজন করলাম। সিটি করপোরেশন (নির্বাচনী আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি-৫ অনুসারে প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কোনো রাজনৈতিক দল, অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনী প্রচার করতে পারবেন না।’
রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্দেশে চিঠিতে অভিযোগটি খতিয়ে দেখা, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবেন বলে আমি আশাবাদী। অন্যথায় এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনসমূহ কখনই জনগণের আস্থা অর্জন করবে না।’
অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা কিছুক্ষণ আগে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগটি পেয়েছি। ওই এলাকায় নির্বাচনের দায়িত্বে যে ম্যাজিস্ট্রেট আছেন অভিযোগটি আমি আগামীকাল তাঁকে পাঠিয়ে দেব। তিনি তদন্ত করে দেখবেন তারপর তা ইসিকে জানাবেন। পরে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

নিজস্ব প্রতিবেদক