গ্রাহকের টাকা ‘আত্মসাৎ করে’ প্রেমিকাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠালেন ব্যাংকার
বেসরকারি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহিদ সারোয়ার। বনানীর প্রিভিলেজ সেন্টারের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালনকালে ফেরদৌসী জামান নামের এক গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল করে প্রায় চার কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আত্মসাৎ করে জাহিদ সারোয়ার তাঁর প্রেমিকা ফারহানা হাবিবকে ওই টাকা থেকে সোয়া দুই কোটি টাকা দেন বলে অভিযোগ। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ফারহানাকে বিয়েও করেন জাহিদ। আজ বুধবার বিষয়টি এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।
প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করে গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শফিউল্লাহ বাদী হয়ে আসামি জাহিদ ও ফারহানার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।’
প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য আরো বলেন, ‘রামপুরার স্থায়ী বাসিন্দা ফেরদৌসী জামান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের বনানী শাখায় যৌথ নামে একটি প্রিভিলেজ ব্যাংক হিসাব খোলেন ২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল। এর পর ২ থেকে ৮ মে পর্যন্ত তিন দফায় তিনি ওই অ্যাকাউন্টে সাড়ে ছয় কোটি টাকা জমা দেন। একই বছরের ৬ অক্টোবর ওই শাখায় ফেরদৌসী একক নামে আরেকটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে নতুন অ্যাকাউন্টে পুরো টাকা হস্তান্তর করেন তিনি। ফেরদৌসীর দুটি অ্যাকাউন্টই জাহিদ সারোয়ারের তত্ত্বাবধানে খোলা হয়।’
প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য আরো বলেন, ‘ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য পাওয়ার জন্য ফেরদৌসী তাঁর মোবাইল নম্বর দিয়ে এসএমএস সার্ভিস চালু করেন। পরে ফেরদৌসী জামানের স্বাক্ষর দিয়ে প্রথমে এসএমএস সার্ভিসের মোবাইল নম্বরটি পরিবর্তন করা হয়। পরে হস্তলিপি বিশারদ দিয়ে পরীক্ষা করালে জানা যায়, ওই স্বাক্ষর ফেরদৌসীর নয়। তবুও ফেরদৌসীর স্বাক্ষরসংবলিত পত্রটি জাহিদ সারোয়ার স্বাক্ষর ও সিল দিয়ে গ্রহণ করেন।’
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, ‘এর পর অ্যাকাউন্টের চারটি চেক বই সংগ্রহ করে ওই চেকের স্বাক্ষর জাল করে ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চার কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা আসামি জাহিদ সারোয়ার আত্মসাৎ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আত্মসাৎ করা ওই টাকা ফারহানা হাবিবের মালিকানাধীন আশা ক্রিয়েশনের (প্রতিষ্ঠান) নামে ব্র্যাক ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখার ব্যাংক হিসাবে দুই কোটি ২৪ লাখ টাকা জমা করা হয়।’

নিজস্ব প্রতিবেদক