ডেসটিনির চেয়ারম্যান-এমডির জামিন আবেদন খারিজ
মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ও ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিনের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতকে এ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত রোববার শুনানি শেষে আপিল বেঞ্চ আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলায় জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন মো. খুরশিদ আলম খান।
শুনানিকালে আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি বলেন, ৩৫ লাখ গাছ বিক্রি করে টাকা পরিশোধের জন্য জামিনের শর্ত দিয়ে যে আদেশ দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। কারণ ‘ডেসটিনির লাগানো সব গাছ ছাগলে খেয়ে ফেলেছে’।
ডেসটিনির আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি আরো বলেন, ডেসটিনির সৃজনকৃত ৩৫ লাখ গাছ বিক্রি করে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার শর্তে দুজনকে জামিন দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। কিন্তু তিন বছরেও ওই আদেশের বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে মুক্তিও মেলেনি।
ওই দিন নতুন জামিন আবেদনের শুনানিতে ডেসটিনির আইনজীবীর কাছে আদালত জানতে চান, ‘গাছ কোথায় গেল?’
জবাবে ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি মৃদু হেসে বলেন, ‘গাছ তো ছাগলে খেয়ে ফেলেছে।’ তখন আদালতে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
পরে আজমালুল হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী অধিকাংশ গাছ কেটে নিয়েছে। যার কারণে অর্থ পরিশোধ সম্ভব হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘২০০৯ সালের অর্থ পাচার আইনে সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর। আবেদনকারীরা সাত বছর ধরে কারাগারে আছেন। নিম্ন আদালতে মামলার বিচারের যে ধীরগতি, তা শেষ হতে কত বছর লাগবে জানি না। বিচারাধীন মামলায় তাঁদের অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখা সংবিধান পরিপন্থী।’
শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।
২০১২ সালের ৩১ জুলাই রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেনসহ ডেসটিনি গ্রুপের ২২ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর কলাবাগান থানায় দুটি মামলা করে দুদক। ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ (এমএলএম) ও ট্রি-প্ল্যানটেশন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে তিন হাজার ২৮৫ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫২৪ টাকা আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দুটি করা হয়। বর্তমানে এ মামলায় দুজনই কারাগারে রয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক