ধর্ষণ করে দম্ভ করা চার আসামি কারাগারে
গাজীপুরে কিশোরীকে গণধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। আজ রোববার ওই চার আসামিকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত আগামী মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ওই চার আসামি হচ্ছে, শরীফ হোসেন(১৮), ইমরান হাসান সুজন (১৯), আহসান ওরফে হাসান (১৬) এবং শরিফ উদ্দিন মোল্লা (২০)।
গত ১৫ জানুয়ারি ওই কিশোরীকে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে একটি বাসায় ডেকে নিয়ে যায় ওই চারজন। কেক কাটার এক পর্যায়ে ওই কিশোরীর কোমল পানীয়র গ্লাসে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দেয় তারা। কিশোরীটি অচেতন হয়ে গেলে ওই চারজন তাকে ধর্ষণ করে।
ওই ঘটনার পর মোবাইল ফোনে বিষয়টি স্বীকার করে দম্ভ প্রকাশ করে ওই চারজন জানায়, হয়তো এরপর থেকে কারাগারে থাকতে হতে পারে। গত শুক্রবার ওই চারজনের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় গাজীপুর থেকে। তার দেওয়া তথ্যে অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় ময়মনসিংহ থেকে।
গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক মো. রকিবুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ বিকেলে গাজীপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩-এর আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন আগামী মঙ্গলবার ওই চারজনের রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল সাকিব জানান, ধর্ষণের ঘটনা অন্যদের কাছে প্রকাশ না করার জন্য ওই কিশোরীকে নানা হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই চারজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এসআই সাকিব জানান, ওই ঘটনার পর ওই চারজন স্থানীয় একটি সেলুনে বসে ঘটনাটি প্রকাশ করে এবং নিজেদের পরিণতির কথা জানিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে।
গত ১৬ জানুয়ারি কিশোরীর মা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। কিশোরীর স্বজনরা আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য র্যাব ১-এর কাছে সাহায্য কামনা করেন। র্যাব ১-এর সদস্যরা গত শুক্রবার রাতে গাজীপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এদিকে কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে আসামি পক্ষের লোকজন নানা হুমকি দিচ্ছে।

নাসির হোসেন, গাজীপুর