নির্বাচনি সহিংসতায় নিহতের ঘটনায় ইসির দুঃখ প্রকাশ

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভায় ভোটের দিন দুই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় ছোটন অধিকারী নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) দুঃখ প্রকাশ করেছে।
আজ রোববার ভোটগ্রহণ শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার সবার পক্ষে এ দুঃখ প্রকাশ করেন।
মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেছেন, ‘কোনো মৃত্যুই কাঙ্ক্ষিত নয়। এজন্য আমরা সবাই দুঃখিত। সৈয়দপুরে সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের পাশে, কেন্দ্র থেকে দূরে, দুটি গাড়ির মাঝে, ছোটন অধিকারী নামের একজন ব্যক্তি আহত অবস্থায় ছিল।’
ইসি সচিব বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র থেকে অনেক দূরে দুই প্রার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। ছোটন অধিকারীকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। তাঁর শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল না। সুরতহালে এ রকমই পাওয়া গেছে। কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তাঁর মৃত্যুর কারণটি জানতে গেলে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে আমরা বলতে পারব।’
যদিও সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ওমিদুল হাসান বিকেলে এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘দুপুর ১টার দিকে ছোটনের স্ত্রী তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেসময় আরও লোকজন ছিল। হাসপাতালে তাঁকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। এ ছাড়া আমাদের হাসপাতালে আরও তিনজনকে নিয়ে আসা হয়, যারা আহত।’
মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘২৯টি পৌরসভা, চারটি উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন এবং জেলা পরিষদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করা হয়নি। আমাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মনিটরিং সেল ঘণ্টায় ঘণ্টায় যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে, তাতে এখন পর্যন্ত যা বুঝতে পেরেছি, দেশে যে নির্বাচনটি হয়েছে, তা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচন কেমন হয়েছে, সেটি আপনারাই বলতে পারবেন। আমি তো মনে করি, ভোট ভালো হয়েছে। যদি ওই ঘটনাটি, যে মৃত্যুটি সেটি কোনো পুলিশের গুলিতে মারা যায়নি। তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এখন এই মৃত্যুটি কীভাবে হয়েছে, সেটি ময়নাতদন্ত হলেই আমরা বুঝতে পারব। আমাদের মূল্যায়নে এখন পর্যন্ত আমরা মনে করি, ভোট ভালো হয়েছে।’
নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘যদি কেউ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে, এটি নিতান্তই তাঁর ইচ্ছে। তিনি করতেই পারেন। তিনি যদি আমাদের অভিযোগ করেন, আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। আমাদের ফিল্ড লেভেলে রিটার্নিং অফিসার আছে, আমাদের ল অ্যান্ড এনফোর্সিং এজেন্সি আছে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে; কাজেই সবাই কিন্তু আইনশৃঙ্খলা দেখেন। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনার জন্য মূল ব্যক্তি হলো রিটার্নিং অফিসার। তাঁদের কাছে অভিযোগ করে থাকেন, যদি কমিশনেও যদি তাঁরা কোনো ধরনের অভিযোগ করে থাকেন, তদন্ত করে দেখব। আজকে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে আপনারা জানেন চারঘাটে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, কোনো দুস্কৃতকারী চার্জ করেছে। সেখানে চারজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি শৃঙ্খলার মধ্যে এনেছে।’
‘রিটার্নিং অফিসার আমাদের জানিয়েছেন, সেখানে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। ইভিএমে জালভোট দিতে গেলে একজনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের মাঠে অ্যাকশন ছিল। যার কারণেই আমরা বলতে পারি, যে এই নির্বাচনটি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থগিত চারটি কেন্দ্রের ভোটও সুষ্ঠু হয়েছে। তাই বলতে পারি, যে কেউ ইচ্ছে করলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন। এটি নিতান্তই তাঁর ব্যাপার’, যোগ করেন ইসি সচিব।
ইউপি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেওয়ার ঘোষণা নিয়ে মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সব সময় চায়, প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আমাদের কাছে যে সহযোগিতা চাইবে, নির্বাচন কমিশন সে বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করবে।’
বিএনপির এই ঘোষণায় ইসি কোনো প্রশ্নের মুখে পড়ল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘সেটি দেখা যাক। এখানও তো তফসিল ঘোষণা করিনি। তফসিল ঘোষণার সময় আমরা বিষয়টি দেখব।’
ভোটার দিবস উদযাপন নিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘আমাদের ভোটার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ১৮ বছর হলে ভোটার হতে আর দেরি নয়, এটি নিসন্দেহে তাদের জন্য একটা আনন্দের ব্যাপার। যারা ভোটার হবেন, এই নাগরিকরাই কিন্তু ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন। আমি মনে করি, আমাদের এই ভোটর দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়ে নাগরিকরা তাদের অধিকারের নিয়ে সচেতন হবেন।’