নিষ্প্রয়োজনীয় গ্রেপ্তার না করতে কঠোর নির্দেশনা দিব : সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছন, ‘আমরা বিএনপিকে বলেছি, বৈঠক করে পুলিশকে কঠোরভাবে বলে দিব প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ৩০ জানুয়ারির আগে কোনো ধরনের নিষ্প্রয়োজনীয় হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা যাবে না।’
আজ সোমবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে আসন্ন ঢাকার দুই সিটির ভোট উপলক্ষে বিএনপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের কাছে সিইসি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান বলেন, ‘তার মানে এই নয়, যদি কেউ ক্রিমিনাল অফেন্স করে বসে, তার বিরুদ্ধে নির্বাচনের দোহাই দিয়ে অ্যাকশন নেওয়া যাবে না। এটা তো হতে পারে না। আদালত থেকে সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তখন তো আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশ অবস্থান নিতে পারে না। কোনটা প্রয়োজনীয় ও কোনটা নিষ্প্রয়োজনীয় তা নিয়ে আমরা আলাদাভাবে বসে পুলিশকে বলে দিব।’
কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। এখানে প্রক্সি-ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই ঠিক এই জিনিসটাই আমরা বিএনপিকে বুঝিয়েছি।’
‘ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিষয়ে তাঁরা (বিএনপি) আপত্তি করেছেন। আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে বলেছি, এখানে ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।’
সিইসি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে যেসব অনিয়মগুলো ছিল- যেমন বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে গিয়ে ব্যালট ভরে আবার কেন্দ্রে রেখে দেওয়া, ব্যালট বক্স পানিতে ফেলে দেওয়া, আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া- আশির দশকের যেরকম ছিল- নির্বাচনের ফল রাত ১০টায় একবার, রাত ৩টায় আরেকবার, সকালে আরেকবার হতো। আর নামপ্রকাশ হতো আরেকজনের। এ সমস্ত বিষয়গুলো আমরা তাদেরকে বলেছি। নানা কারণে আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থায় কিছু অনিয়ম থেকে গিয়েছিল। সেসব থেকে বেরিয়ে আসতে আমরা মেশিনে (ইভিএম) ভোট নিতে চাই। ইভিএমে প্রক্সি-ভোট দেওয়া যায় না। একজন একবারের বেশি ভোট দিতে পারবে না। এই প্রটেকশনগুলো ইভিএমের মাধ্যমে নিশ্চিয়তা দিচ্ছি।’
নির্বাচন কমিশনের প্রধান বলেন, ‘আমরা তাদেরকে বলেছি, ইভিএমে নীরবে কারচুপি হওয়ার সুযোগ নেই। এর আগে আমরা সংসদ নির্বাচন করেছি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করেছি, সেখানে কারচুপির অভিযোগ আসেনি। ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল না।’
সিইসি আরো বলেন, ‘‘এখানে প্রোগ্রামিং করার কোনো সুযোগ নেই। প্রোগ্রামিং আমাদের হাতে থাকবে। এটা অনলাইন নয়, অফলাইন সিস্টেম। এখানে হ্যাকিংয়ের কোনো সুযোগ নেই।’
ইভিএম থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘‘ইভিএম থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই। ইভিএমে ভোট করার জন্য আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।’
ইসির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বিজন কান্তি সরকার ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এ ছাড়া ছিলেন ঢাকা উত্তরের বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আওয়াল ও দক্ষিণের মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন।
অপরদিকে সিইসি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম, রফিকুল ইসলাম ছাড়াও সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ আলমগীর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা আবুল কাশেমও উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক