মোনাজাত শেষে স্রোতের মতো গন্তব্যে ফিরছেন মুসল্লিরা
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষে স্রোতের মতো যার যার গন্তব্যে ফিরছেন মুসল্লিরা। কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, আবার কেউ বা হেঁটে যে যেভাবে পেরেছেন, বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
বয়স্কদের অনেককে দেখা যায়, যানবাহন না পেয়ে দীর্ঘপথ হেঁটেই পাড়ি দিচ্ছেন। এদিকে ইজতেমাফেরত মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে, সে জন্য বিশেষ ট্রেন সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
ইজতেমা থেকে ঘরে ফেরা মানুষের চাপে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যানজট দেখা দেয়। বাস টার্মিনালগুলোতে দুপুর গড়াতে গড়াতে ঘরমুখো মুসল্লির ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিদের অনেকে বাস রিজার্ভ করে ইজতেমা ময়দানে হাজির হয়েছিলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গতবারের তুলনায় এবারের ইজতেমায় গণজমায়েত বেশি হয়েছিল। আজ রোববার সকালে ইজতেমায় অংশ নেওয়া চার মুসল্লি ইন্তেকাল করেন। ইজতেমার প্রথম পর্বে এ নিয়ে মোট ১৩ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়।
আজ রোববার সকাল ১১টা ৮ মিনিটে শুরু হয়ে ১১টা ৪৬ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শেষ হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের মুরব্বি কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ জুবায়ের। আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিরা দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য দোয়া করেন। পাপ থেকে মুক্তির মিনতির পাশাপাশি বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ চেয়ে মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি জানান মুসল্লিরা।
দুদিন ধরে ইজতেমা মাঠে সার্বক্ষণিক ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন ছিলেন লাখ লাখ দেশি-বিদেশি মুসল্লি। ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ইজতেমা মাঠে ইমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের ওপর বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুরব্বিরা তাবলিগের ছয় অসুলের মধ্যে দাওয়াতে দ্বীনের মেহনতের ওপর গুরুত্বারোপ করে বয়ান করেন।
১৭ জানুয়ারি শুরু হবে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।
এ ছাড়া আগামী বছর ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক