শীতে কাঁপছে ফুটপাতের বাসিন্দারা
‘বহুত শীত। রাতে ঠকঠক করে কাঁপি। শীতে ঘুম হয় না। কেউ যদি একটা কম্বল দেয় তাই রাস্তায় বসে আছি।’ গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের ফুটপাতে বসে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন রফিকুল ইসলাম নামের এক ভিক্ষুক।
রফিকুল ইসলাম যেখানে বসে ছিলেন তাঁর পাশেই কয়েকজন মানুষ জড়োসড়ো হয়ে ঘুমিয়ে ছিল। দেখে মনে হবে, একটি পাতলা চাদর দিয়ে কিছু জিনিস ঢেকে রাখা। অথচ, ঘুমিয়ে আছেন মা ও দুই মেয়ে।
রফিকুলের সঙ্গে কথা বলার সময় সেলিনা আক্তার (দুই মেয়ের মা) মুখ বাড়ালেন। জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘মাটিতে বস্তা পাতছি। আর গায়ের ওপরে পাতলা চাদর দিছি। এতে হচ্ছে না। মাটির ঠাণ্ডা উঠছে, আবার ওপরের শীত। আমরা গরিব মানুষ, আজ এ রাস্তায়, কাল ও রাস্তায়। কেউ যদি একটা কম্বল দিত। শীত থেকে বাঁচতাম।’
খাইরুন বেগম নামের আরেকজন বলেন, ‘শীতের রাতে খোলা আকাশ ছাড়া আর কেউ আমাদের সাথে থাকে না। সবাই তাড়িয়ে দেয়।’
গল্পের ছলে রফিকুল ইসলাম বলছিলেন, ‘দু-একদিন রাইতে বড় লোকরা কম্বল দেয়। কিন্তু আমি পাই নাই। তাই আইজ জাইগ্যা আছি। ঘুমাইয়া গেলে তো কম্বল পামু না। আর কম্বল নই্য়্যা কাড়াকাড়ি অয়। আজ দরকার অইলে হগ্গল (সব) রাইত জাইগ্যা থাকমু, কম্বল নইয়াই ঘুমামু।’
সেখান থেকে বের হয়ে সামনে এগিয়ে দেখা যায়, ট্রাক থেকে তরকারি নামাচ্ছেন ভ্যানচালকরা। শরীরে একটি জামা পরা। এসব চালক কারওয়ানবাজারেই থাকেন। ঘুমানও এখানে। রফিক নামের একজন ভ্যানচালক বলছিলেন, ‘মাল টানার সময় শীত লাগে না। শুইলেই বেশি শীত লাগে। মাটির ওপরে ঘুমাই। শীত উঠে।’
কারওয়ানবাজার থেকে ফার্মগেটের দিকে এগুতে থাকলে দেখা যায়, পুরো রাস্তার ফুটপাতে শুয়ে আছে অনেকেই। অনেকেই আবার অপেক্ষা করছে কম্বল পাওয়ার আশায়।
এদের ভেতরে ফাতেমা খাতুন নামের একজন বলেন, ‘রাস্তা ছাড়া আর থাকার জায়গা নাই। কেউ থাকতে দেয় না। কোনো বিল্ডিংয়ের নিচে ঘুমাইলে বকে, উঠাইয়া দেয়। আমাদের জন্য কেউ নেই।’
ফার্মগেটের মনোয়ারা পার্কের ফুটপাতে কয়েকজনকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে রহিম সরদার নামের একজন বলেন, ‘এভাবে যত দিন কেটে যায়। মরলে আর শীত লাগবে না। রাস্তায় রাস্তায় জীবন পার।’

মাসুদ রায়হান পলাশ