সরস্বতী পূজা ও ঢাকা সিটির ভোট একই দিনে
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। তবে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ চান না পূজার দিনে ভোট হোক।
কিন্তু নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, সরকারি দিনপঞ্জি অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর সরস্বতী পূজা হওয়ার কথা। সে অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর পূজার ছুটিও ঘোষণা করেছে সরকার। আর হিন্দু পরিষদ বলছে, সরকারি নয়, পঞ্জিকা অনুসারে সরস্বতী পূজা ৩০ জানুয়ারি উদযাপন করা হবে।
পঞ্জিকা অনুসারে, সরস্বতী পূজার দিন যাতে ভোটগ্রহণ করা না হয়, সেজন্য গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ ইসিকে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে পরিষদ পূজার দুদিন আগে অথবা ৩০ ডিসেম্বরের পর ভোটগ্রহণের জন্য আবেদন জানিয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সরস্বতী পূজার তারিখ নির্ধারিত আছে ২৯ ডিসেম্বর। সে অনুযায়ী সরকার ছুটিও ঘোষণা করেছে। এখন একজন ব্যক্তি বা একটি সংগঠন যদি আমাকে বলে, নির্ধারিত দিনে আমরা পূজা করব না, তাহলে কি সেটা গ্রহণযোগ্য? এখানে আপাতত ইসির পূর্বের সিদ্ধান্তে থাকবে। সরকার যদি পঞ্জিকা অনুসারে পূজার দিন ঠিক করে দেয়, তাহলে আমরা বিষয়টি ভাবতে পারি।’
বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা বরাবরই পঞ্জিকা অনুসারে পূজা উদযাপন করি। এবারও তাই করব। পঞ্জিকার হিসাবে সরস্বতী পূজা ৩০ জানুয়ারি। কে আগে বা পরে করল, তা দেখব না, আমরা ৩০ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা করব।’
সাজন কুমার মিশ্র বলেন, ‘ভোটের তারিখ পরিবর্তন করতে আমরা বড় তিন রাজনৈতিক দল— আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে একই চিঠি দিয়েছি। বিএনপি ও জাপার পক্ষ থেকে নির্বাচনের দিন পরিবর্তনের জন্য ইসিকে চিঠি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। জানি না কী হবে। এত কিছু করছি, কারণ হচ্ছে সরস্বতী পূজা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও অনুষ্ঠিত হয়। আবার ভোটও স্কুল-কলেজে হবে। তাহলে তো ইসি ও আমাদের, দুই পক্ষেরই সমস্যা হবে। আর ধরে নিলাম ইসি ৩০ তারিখেই ভোটগ্রহণ করবে। আর কল্পনা করুন, আমরাও ২৯ ডিসেম্বর পূজা উদযাপন করছি। তাহলে ভোটের স্বরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাবে কখন? পূজা তো আর বিকেলে শেষ করা সম্ভব নয়। যদিও আমরা ৩০ ডিসেম্বরই (পূজা) উদযাপন করব।’
সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, ‘রংপুরের নির্বাচনের সময় দুর্গাপূজা হয়। তখন আমরা একটা আবেদন করেছিলাম ভোটের তারিখ পরিবর্তন করার জন্য। কিন্তু তখনো ইসি আমাদের কথা শোনেনি। এবার কী করবে জানি না। এখনো পর্যন্ত ইসি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। একই দিনে ভোট আবার পূজা, কী একটা বিব্রতকর পরিবেশ!’
গত ২২ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর ও যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় ৯ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ ১০ জানুয়ারি।
সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল হক এবং ঢাকা দক্ষিণের মেয়র নির্বাচিত হন সাঈদ খোকন। উভয়ই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন।
২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মারা যান আনিসুল হক। চলতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম জয়ী হন।
সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী, করপোরেশনের মেয়াদ প্রথম সভা থেকে পরের পাঁচ বছর পর্যন্ত। ওই অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৬ মে। এদিকে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পূর্তির আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটের আয়োজন সম্পন্ন করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক