হলি আর্টিজান হামলার আসামিরা আদালতে
রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আট আসামিকে কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আনা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
এ জন্য পুরো আদালত প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে র্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রেজাউল করীম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য আমাদের র্যাবের পক্ষ থেকে হোন্ডা টহল, গোয়েন্দা বিভাগ, জেনারেল ডিউটিসহ দেড় শতাধিকের মতো ফোর্স রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশসহ সব সংস্থা কাজ করছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এর আগে গতকাল র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘হলি আর্টিজানের রায় মাথায় রেখে আমরা সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছি।’
ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) জাফর হোসেন বলেন, ‘রায় উপলক্ষে হামলার আশঙ্কা আমরা একবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না। আদালতপাড়ায় কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে।’
এর আগে গতকাল আদালতের সরকারি কৌঁসুলি পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম সারওয়ার খান (জাকির) বলেন, দুপুর ১২টায় আদালতে রায় ঘোষণা করা হবে। তবে এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করা হবে। তাদের উপস্থিতিতে এ মামলায় রায় ঘোষণা করা হবে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। হামলার পর রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে। সেদিনই উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরের দিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।
জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করে। সংগঠনটির মুখপত্র ‘আমাক’ হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে বলে জানায় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’। এ ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় আজ রায় ঘোষণা করা হবে।
মামলার আট আসামি হলো জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর মামলাটির বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। পরে হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস।
এ মামলায় অভিযোগপত্রে ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন আসামি বিভিন্ন অভিযানে ও পাঁচজন হলি আর্টিজানে অভিযানের সময় নিহত হয়েছে।
অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গি হলো রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।
এ ছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত আটজন হলো তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

নিজস্ব প্রতিবেদক