নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস কাদের জন্য?
আজ নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য- ‘প্রতিটি জন্মই হোক পরিকল্পিত, প্রতিটি প্রসব হোক নিরাপদ’। মাতৃত্ব সম্পর্কে মায়েদের সচেতন করতে প্রতি বছরই ঘটা করে পালিত হয় এ দিবস। কিন্তু নিরাপদ মাতৃত্ব সম্পর্কে খুব কমই জানেন তৃতীয় বিশ্বের এ দেশের পিছিয়ে পড়া নারীরা।
সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ের কর্মজীবী নারীরা মাতৃত্বকালীন ছুটি পেলেও এ সময় প্রায় তেমন কোনো ছুটিই পান না দিনমজুর নারীরা। এমন কি এ সময় তাঁরা যে কদিন কাজে আসেন না সে জন্য তাঁদের দেওয়া হয় না কোনো অর্থ। আশুগঞ্জের কয়েকটি চাতালকল ঘুরে এমনটাই জানা গেছে। urgentPhoto
প্রতিদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন চাতালকলের দরিদ্র নারী শ্রমিকরা। এমনকি সন্তান প্রসবের আগে ও পরে সপ্তাহ দুয়েকের বিরতি শেষে আবারও কাজে যোগ দিতে হয় এসব নারীকে। অন্তঃসত্ত্বা মাকেও কাজ চালিয়ে যেতে হয় সন্তান প্রসবের আগের দিন পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, সন্তান প্রসবের ১০-১৫ দিন পরই আবার কাজে যোগ দিতে হয়। তবে এ কয়দিনের জন্য তাঁদের দেওয়া হয় না কোনো ধরনের পারিশ্রমিক।
আর মাতৃত্বকালীন সময় বাড়তি খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে অধরাই থেকে যায়। মাতৃত্বকালীন ছুটি তো তাদের কাছে অকল্পনীয়।
চাতালকলে কাজ করে ১৫ বছরের কিশোরী জয়েনা বেগম। গত ছয় বছর ধরে ভাই ভাই রাইস মিলে কাজ করছে সে। দুই বছর আগে তার বিয়ে হয়। আর এখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা জয়েনা। তবে এই আট মাসে একবারও ডাক্তার দেখানোর সুযোগ হয়নি তার। অন্যদিকে পঞ্চমবারের মতো সন্তানের মা হতে চলেছেন রেজিয়া বেগম। তিনি জানেনই না তাঁর গর্ভের সন্তানের বয়স কত।
আর নিরাপদ মাতৃত্ব নিয়ে চাতালকলের মালিকদের ভাববার ফুরসত নেই। তাঁদের দরকার কাজ।
আবার হতদরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁরাও খুব বেশি নিশ্চিত করতে পারছেন না মাতৃসেবা।
ইউএনওর এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে আমরা এনসি বা প্রেগনেন্ট মহিলাদের ডেলিভারির আগে চারটা এবং ডেলিভারির পরে তিনটা ভিজিটের ওপর জোর দিয়েছি।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিনহা বলেন, মা যখন এ অবস্থায় থাকেন স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের রেস্টে থাকা উচিত।

হাসান জাবেদ