পাকিস্তানের বিকৃত ইতিহাসের ইন্ধনদাতা খালেদা জিয়া : তোফায়েল
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পাকিস্তানি লেখক জুনায়েদ আহমেদ রচিত বইয়ের বিকৃত ইতিহাসের ইন্ধনদাতা বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ অভিযোগ করেন।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভাটির আয়োজন করে স্বাধীনতা একাডেমি।
তোফায়েল বলেন, ‘যে কথাটা পাকিস্তানিরা বলে, সে কথা বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি বলেন। যার ফলে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা জুনায়েদ আহমেদ নামের একজনকে দিয়ে একটি বই লিখিয়েছেন। যে বইয়ে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, পাকিস্তানকে পরাজিত করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছে তা অস্বীকার করে সে বইয়ে উল্লেখ করেছে নারী ধর্ষণ ও মানুষ হত্যা নাকি মিত্র বাহিনী করেছে। এই বিকৃত ইতিহাসের ইন্ধনদাতা খালেদা জিয়া।’ তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে তা আজ সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে স্বীকৃত। কিন্তু আজ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, এ দেশের দৃঢ়চিত্তের নেত্রী শেখ হাসিনা সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছেন। যখন ড. ইউনূসের তৎপরতায় হিলারির (সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন) মাধ্যমে পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংক তাদের অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে; তখন শেখ হাসিনা নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ করে চলেছেন। দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। তাঁকে কেউ রূখে দিতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা হবে।’
বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়ার বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গবন্ধু উপাধি কোনো ব্যক্তি দেয়নি। এটা বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা ছিল। বাংলোদেশের রাখাল রাজা, বাংলাদেশের মুকুটহীন সম্রাট ইত্যাদি অনেক বিশেষণ তাঁকে দেওয়া যায়। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কেউ কোনো উপাধি দেয়নি। মহাত্মা গান্ধী উপাধি পান কবি রবীন্দ্রনাথের মহাত্মা কবিতা লেখার মাধ্যমে। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে তাঁর সহকর্মীরা দেশবন্ধু বলে ডাকত। এভাবেই সুভাষ বসুকে মানুষ ডাকত (নেতাজি বলে)। লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে জন মানুষের পক্ষ থেকে এই উপাধি আমি দিয়েছিলাম। লক্ষ লক্ষ মানুষ হাত তুলে, স্লোগান দিয়ে বঙ্গবন্ধু উপাধিকে সম্মতি দিয়েছিল।’
এ সময় আগামী বছর থেকে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক