‘আমার লাইসেন্স নাই, রং সাইডে গিয়া অপরাধ করছি’
‘আমার লাইসেন্স নাই। আমি রং সাইডে গিয়া অপরাধ করছি। আমি তানজিল বাসে ড্রাইভারি করি। ২৫ তারিখে তাঁতীবাজারে প্রচুর জ্যাম দেখে দ্রুত যাওয়ার জন্য রং সাইড দিয়া উল্টা পথে গাড়ি চালাইতে থাকি। পরে বংশাল ক্রসিংয়ের আগে একটা সিএনজির সঙ্গে আমার গাড়ির ধাক্কা লাগে। আমি সিএনজিরে ধাক্কা দিয়া দ্রুতগতিতে গাড়ি নিয়া মিরপুর চইলা যাই। পরে জানতে পারি, সিএনজির এক যাত্রী ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছে।’
গতকাল বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে এভাবে স্বীকারোক্তি দেন মেডিকেল ছাত্রীর সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেওয়া বাসচালক রিয়াজ বাঘা।
মেডিকেল ছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গত ২৭ ফ্রেব্রুয়ারি রিয়াজকে একদিনের রিমান্ডে পাঠান ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী। পরে রিমান্ড শেষ হলে
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুক্কুন উদ্দিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বাসচালক রিয়াজ রাজধানীর শাহআলী থানার ১ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাসায় থাকেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পাখীমারায়। তাঁর বাবার নাম ইব্রাহিম বাঘা। তানজিল পরিবহনের ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭১০৩ নম্বরের বাসটি তিনি চালাতেন।
রিয়াজ আদালতকে জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা ১০ মিনিটে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে যাত্রী উঠিয়ে রিয়াজ মিরপুর চিড়িয়াখানায় যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁতীবাজারে পৌঁছানোর পর সেখানে প্রচুর যানজট দেখেন। তখন দ্রুত যাওয়ার জন্যই তিনি উল্টো পথে গাড়ি চালান। দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় বংশাল ক্রসিংয়ের একটু আগে তিনি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেন। এর পর দ্রুতগতিতে গাড়ি নিয়ে মিরপুর চলে যান। পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, অটোরিকশার এক যাত্রী ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছেন। এ ঘটনার পর রিয়াজকে রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত শনিবার সকালে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেলের পঞ্চম বর্ষের ছাত্রী সাদিয়া ও তাঁর মা রাজশাহী থেকে ট্রেনে কমলাপুর আসেন। সেখান থেকে তাঁরা অটোরিকশায় করে হোস্টেলে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথেই বংশাল থানার নর্থসাউথ রোড এলাকায় তাঁদের বহনকারী অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয় একটি বাস। এতে সাদিয়া নিহত হন। আর তাঁর মা গুরুতর আহত হন।

শুভ্র সিনহা রায়