রাজধানীতে জাগুয়ার গাড়ি জব্দ
কূটনৈতিক সুবিধার অপব্যবহারের দায়ে রাজধানীর পিংকসিটির একটি বাড়ি থেকে জাগুয়ার গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের গোয়েন্দারা। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর পিংকসিটির জেনো ভ্যালির গ্যারেজ থেকে ‘ঢাকা মেট্টো ভ ১১-১৬২৫’ এর জাগুয়ার গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের ওই অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক ইমাম গাজ্জালী। এই কর্মকর্তা জানান, গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে ওই গাড়িটি আটক করা হয়েছিল। কূটনৈতিক সুবিধায় গাড়িটি আমদানি করে পরবর্তী সময়ে তা অবৈধভাবে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গিয়েছিল।
গোপন ওই তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা দল তদন্তের স্বার্থে বর্তমান ব্যবহারকারী তানিয়া রহমানের কাছ থেকে গাড়িটিকে সাময়িক আটক করে শুল্ক গোয়েন্দার সদর দপ্তরে নিয়ে আসে। এরপর গাড়িটির বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের পর আজ বৃহস্পতিবার শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়িটি জব্দ করে।
শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গাড়িটি আমদানির সময় দাখিলকৃত ‘বিল অব এন্ট্রি (বি/ই)’ অনুযায়ী গাড়িটির নির্মাণে দেশ দেখানো হয়েছে জার্মানি। কিন্তু রেজিস্ট্রেশনের সময় সে তথ্য পাল্টে জাগুয়ার গাড়িটি চীনে তৈরি বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অন্যান্য সূত্রে গাড়িটি যুক্তরাজ্যে নির্মিত বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আমদানির সময়ও বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। গাড়ির দলিলের রশিদে ‘ইনভয়েস এলসি নম্বর’ উল্লেখ আছে ০৪৪০২০১০১০৩, তারিখ : ০৪/০৬/২০০২। অথচ বিল অব লেডিং (বিএল) অনুযায়ী এলসি নং-০৭৪৪০২০১০১০৩। আবার বি/ই-তে এই নম্বর আছে ১৭৪৪০২০১০১০৩। এলসি ও এলসিএ ওপেনিং ব্যাংকের তথ্যেও ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে।
এত গরমিলের পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক গোয়েন্দা দল গাড়িটি অস্পষ্ট ও মিথ্যা দলিল উপস্থাপন করে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টার প্রমাণ পায়।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, গাড়িটির প্রকৃত মালিক তানিয়া রহমানের স্বামী মৃত মাহবুবুর রহমান। তিনি বংলাদেশে অবস্থিত চেক রিপাবলিকের কনস্যুলার অফিসে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকেই অনৈতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে গাড়িটি কূটনৈতিক সুবিধায় আনা হয়েছিল এবং তা অবৈধভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক