প্রবাসীদের কল্যাণে বোর্ড হচ্ছে
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে অবশেষে গঠন করা হচ্ছে বোর্ড। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সবচেয়ে বড় অংশীদার প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা ও অসুবিধাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসন করবে এ বোর্ড।
‘প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড আইন-২০১৭’ নামে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া তৈরি করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ আইন অনুমোদনের জন্য আগামীকাল সোমবার উপস্থাপন করা হতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানায়, বর্তমানে বিশ্বের ১৫৭টি দেশে প্রায় এক কোটি ত্রিশ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক চাকরি করছেন। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে প্রতিবছরই তাঁরা বিপুল রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন দেশে। জিডিপিতে এর অবদান ১৩ শতাংশ। দীর্ঘ ৪৫ বছরেও এ বিপুল প্রবাসীর কল্যাণে কোনো বোর্ড গঠন করা হয়নি। প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি বোর্ড গঠনের দাবি করে আসছে।
আইনের খসড়ায় প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব চেয়ারম্যান এবং প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (ন্যূনতম যুগ্ম সচিব মর্যাদা) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সরকার মনোনীত বিদেশ ফেরত দুজন (একজন নারী), জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক (ডিজি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) সভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মর্যাদার একজন করে কর্মকর্তা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য থাকবেন।
আইনটি পাস হলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের চলমান কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রবাসীকর্মী এবং তাদের পরিবারের জন্য হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, কর্মসংস্থান প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থায়নসহ নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে।
এ ছাড়া আগামীকালের মন্ত্রিসভায় ‘নগর ও অঞ্চল উন্নয়ন আইন’ নামে পৃথক আরেকটি আইন অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ আইনের খসড়া তৈরি করেছে।

এম এ নোমান