মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদকারী বাবা খুনের ঘটনায় মামলা
মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদকারী কাজী মাহবুব হোসেনকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
আকাশসহ (২২) সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত চার-পাঁচজনের নামে এই মামলা করা হয়।
পাঁচ সন্তান নিয়ে এখন কোথায় দাঁড়াবেন তা ভেবে দিশেহারা কাজী মাহবুবের স্ত্রী। আজ সাংবাদিকদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সরকারের কাছে স্বামীর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন রাবেয়া বেগম।
কাজী মাহবুবকে ছুরিকাঘাতের পরই পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযানে নামে। তবে মামলার প্রধান আসামি আকাশ ও তাঁর পরিবার আগেই পালিয়ে যাওয়ায় এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘ওনার স্ত্রী তাঁর স্বামীর হত্যার বিষয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা এই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করব। এবং এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান পূর্ব হতেই অব্যাহত আছে। এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’
এদিকে, কাজী মাহবুবের হত্যার প্রতিবাদে স্টাম্প ভেন্ডার ও দলিল লেখক সমিতি তিনদিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে অর্ধদিবস কর্মবিরতি, কালো ব্যাজ ধারণ ও দোয়া মাহফিল।
শহরের পাবলিক হল রোডের বাসিন্দা কাজী মাহবুবের মেয়ে স্থানীয় বীণাপাণি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। স্থানীয় বখাটে আকাশ প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। আকাশকে বেশ কয়েকবার নিষেধ করলেও তা না শুনে উল্টো তিনি ওই কিশোরীকে আরো বেশি উত্ত্যক্ত শুরু করেন। একপর্যায়ে কাজী মাহবুব বিষয়টি পুলিশকে জানান। বেশ কিছুদিন আগে পুলিশ তাঁকে ধরে এবং পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এরই প্রতিশোধ নিতে আকাশ ও তাঁর চার সহযোগী গত ১৫ জুলাই কাজী মাহবুবকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেন।
পরে কাজী মাহবুবকে প্রথমে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান তিনি।

মাহবুব হোসেন সারমাত, গোপালগঞ্জ