আবারও রাবি শিক্ষকের কাছ থেকে চাঁদা দাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদীকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। সফিকুন্নবী অভিযোগ করেছেন, গতকাল শনিবার ‘জনযুদ্ধ’ নামক একটি সংগঠনের পরিচয় দিয়ে জনৈক মেজর জিয়া মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করেন।
এ নিয়ে চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় অধ্যাপক সফিকুন্নবী আজ রোববার দুপুরে নগরীর মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন।
অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘শনিবার রাত ৮টা ২৯ মিনিটে আমার বাংলালিংক নম্বরে (রবি নম্বর থেকে) ফোন আসে। ও প্রান্ত থেকে নিজেকে বিডিআর সেলিম বলে পরিচয় দেওয়া হয়। এক সময় সে অন্য আরেকজনের হাতে ফোন দেয়। অন্যজন নিজেকে ‘জনযুদ্ধ’র কমান্ডার মেজর জিয়া নামে পরিচয় দেয়।’
‘মেজর জিয়া নামধারী ওই ব্যক্তি জানায়, তাঁর দলের কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়েছে এবং ভারতে তাদের চিকিৎসা চলছে। এই চিকিৎসার জন্য প্রথমে জিয়া তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে সে দাবি ৫০ হাজার টাকায় নেমে আসে।’
অধ্যাপক সফিকুন্নবী আরো বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষক, আমার পক্ষে কোনো অর্থ দেওয়া সম্ভব নয়। তখন সে আমার সন্তানের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।’
বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ‘লাল বাহিনী’, ‘পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি’সহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য পরিচয় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা এ ঘটনা পুলিশ কিংবা অন্য কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতি সভাপতি আনন্দ কুমার সাহার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে ফোন দেয় এক ব্যক্তি। নিজেকে সে ‘লাল বাহিনী’র সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর গত ১০ মার্চ ‘লাল বাহিনী’র পরিচয় দিয়ে মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবুল কাশেমের কাছে।
১২ মার্চ একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয় দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে। ২১ মার্চ ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মজুমদার ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাসকেও চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. তারিকুল হাসান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘শুধু সফিকুন্নবী সামাদী স্যারকে নয়, এর আগেও বেশ কয়েকজনকে এভাবে ফোন দিয়ে চাঁদা দাবি করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ধরনের ঘটনা পাঁচ-ছয় মাস ধরেই ঘটে আসছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েছি। গতকালের ঘটনা পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। যে মোবাইল ফোন থেকে ফোন করা হচ্ছে সেগুলোও আমরা পুলিশকে দিচ্ছি। পুলিশ দুষ্কৃতকারীদের ধরার চেষ্টা করছে।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আতিকুর রহমান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ছয় মাসের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও নানা হুমকি দেওয়ার মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। অনেকে হয়তো ভয়ে তাদের টাকাও দিচ্ছে। যার কারণে এটা আরো বাড়ছে। আমরা বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। তিনি থানায় পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
আর এর আগে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বেশির ভাগই নাম-পরিচয়হীন ফোন নম্বর থেকে হুমকি দিয়েছে। ফলে এ পর্যন্ত কাউকে ধরতে পারিনি। তবে বিষয়টি আমরা তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দিয়ে খতিয়ে দেখছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা