‘হামলার ভয় ছাড়া মরতে চাই’
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রাষ্ট্রীয় হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও উচ্ছেদের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে চার লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এই মানুষগুলো খাবার-বাসস্থান সংকট, পুষ্টিহীনতা, চিকিৎসাসহ নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। দাতা সংস্থাগুলো বলছে, শিশু, বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দুজন ৮৫ বছর বয়সী নূর জাহান ও দৃষ্টিহীন মনির আহমেদ (৩৬)। বাংলাদেশে আসার আগে ও পরে তাঁদের করুণ কাহিনী শুনেছেন আলজাজিরার প্রতিবেদক। এনটিভি অনলাইনের জন্য তাঁদের বক্তব্যের হুবহু ভাষান্তর করা হলো।
নূর জাহান
রাখাইন রাজ্যের মংডুর কুইন্নাপারা গ্রাম থেকে আমি পালিয়ে এখানে এসেছি। মিয়ানমারের সেনারা আমার ২৮ বছর বয়সী সন্তান আবদুল্লাহকে খুন করেছে। সে-ই আমার দেখাশোনা করত। কিন্তু জীবন বাঁচাতে আমার মৃত সন্তানকে রেখেই গ্রামবাসীর সঙ্গে পালাতে হয়েছে। আমি ভালোভাবে হাঁটতে পারি না। তাই অনেক কষ্টে নাফ নদ পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে ধানখালী চর পর্যন্ত আসতে হয়েছে।
আমি আসতে পারছিলাম না, কষ্ট হচ্ছিল। এ অবস্থা দেখে হামিদ হোসেন (২৭) নামের একজন এগিয়ে আসে। আমাকে সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখ সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের শাহপরীর দ্বীপে নিয়ে আসে সে।
প্রথমে আমি কুতুপালংয়ের বর্ধিত অংশে আশ্রয় নিই। পরে সেখান থেকে হামিদের পরিবারের সঙ্গেই বালুখালীর পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিই। সেখানে আমি হামিদের পরিবারের সঙ্গেই থাকছি। কিন্তু তাঁর পরিবারের সদস্য সংখ্যাও কম নয়, ১৫ জন।
আমার স্বামী আট বছর আগেই মারা গেছেন। আমার আট সন্তানের একজন ছিল আবদুল্লাহ। বাকি সাতজন কোথায় আছে, তা আমি জানি না। আমার বর্তমান বাসস্থান বালুখালীর এই পাহাড়ের চূড়া বেশ ভালোই। তবে রাস্তা থেকে অনেক দূরে।
সবকিছুই আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি, এখন আমি হামলার ভয় ছাড়া মরতে চাই।

মনির আহমেদ
আমি চোখে দেখি না। মংডুর চারিকাম্ব থেকে অনেক কষ্টে বাংলাদেশে এসেছি। টিকে থাকতে এখন থাইংখালীর অনিবন্ধিত শরণার্থী শিবিরে ভিক্ষা করছি। এখানে আমি সাত দিন ধরে আছি। কিন্তু কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র পাইনি, আমার চোখের ডাক্তার দেখানো দরকার। আমি জানি না, কোথায় ডাক্তার খুঁজে পাব।
তবে এখানে আমি ভালো আছি, এখানে অত্যন্ত কেউ আমাকে খুন করবে না। এখানকার মানুষ বেশ উদার, তারা আমাকে খেতে দেয়।

আলজাজিরা