দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চালু হলো ট্রেন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে চালু হয়েছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামে একজোড়া নতুন ট্রেন। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় সড়ক পরিবহণ ও সেতু, নৌপরিবহণ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে এই ট্রেনের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনের পর বিকেল সাড়ে তিনটায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রা বিরতির পাশাপাশি স্বল্প সময়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এসে পৌঁছায় গোপালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সেলিমুজ্জামান মোল্লা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জিলানী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফ রফিকুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ প্রমুখ। এর আগে বিকেল থেকেই সেখানে জড়ো হয় কয়েক হাজার মানুষ।
পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী কোচ ও লোকোমোটিভের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যেই ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামে এক জোড়া নতুন কমিউটার ট্রেন চালু করা হল।
এই ট্রেনের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী চাকরিজীবী এবং সাধারণ যাত্রীরা প্রতিদিন স্বল্প ব্যয়ে ও নির্ভরযোগ্যভাবে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন।
রাজধানী ঢাকার সাথে সরাসরি রেল যোগাযোগের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার কৃষিপণ্য, মাছ এবং অন্যান্য স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য দ্রুত ও তুলনামূলক অনেক কম ব্যয়ে ঢাকার বাজারে পরিবহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
১৩৫ নম্বর অভিযাত্রী কমিউটার ট্রেনটি ঢাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। অন্যদিকে, ১৩৬ নম্বর অভিযাত্রী কমিউটার ট্রেনটি গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে। ট্রেনটিতে কোচ সংখ্যা ৮টি এবং আসন সংখ্যা মোট ৬৩০টি।
ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ ১৪৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রুটে মোট যাত্রাবিরতি থাকবে ৭টি স্টেশনে। যাত্রাবিরতি স্টেশনগুলো হলো কেরাণীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মহেশপুর ও কাশিয়ানী জংশন। প্রতি শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।
ট্রেনটির প্রথম যাত্রায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী যাত্রীদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে আসেন।

মাসুদ পারভেজ, গোপালগঞ্জ