শাপলার শুঁটকি, আলুর চেয়ে ৭ গুণ ক্যালসিয়াম
বিলের পানিতে ভেসে থাকা রক্তিম পাপড়ির সৌন্দর্য কেবল দর্শনার্থীদের চোখই জুড়ায় না, গাজীপুরের শ্রীপুরের শতাধিক দরিদ্র পরিবারের আয় ও বেঁচে থাকার ভরসাও জোগাচ্ছে। বর্ষাকালে বিল থেকে সংগৃহীত লাল শাপলা রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানিয়ে পাইকারি বাজারে বিক্রি করে সংসারের অভাব দূর করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শ্রীপুর উপজেলার প্রহল্লাদপুর ইউনিয়নের ডুমনি ও পারুলী বিলের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক নিয়মেই ফোটে অগণিত লাল শাপলা। প্রতিদিন ভোরের আলো ফুটতেই কাঠের ডিঙি কিংবা তালগাছের কুষা নৌকা নিয়ে বিলে বেরিয়ে পড়েন স্থানীয় ডুমনি গ্রামের বাসিন্দারা। কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সংগৃহীত শাপলা প্রখর রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় একধরনের বিশেষ শুঁটকি। কোনো প্রকার পুঁজি ছাড়াই শুধু মেধা ও শারীরিক শ্রমে এই মৌসুমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অস্বচ্ছল পরিবারগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক জানান, তালের ডিঙি দিয়ে শাপলা তোলা বেশ কঠিন, তাই এ বছর কাঠের নৌকা তৈরি করে শাপলা সংগ্রহ করছি। সকালে বের হয়ে দুই-তিন ঘণ্টা শাপলা তুলে এনে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানাই। গত বছর প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা আয় করেছিলাম, এবারও ভালো আয়ের আশা করছি।
বাড়ির কাজের পাশাপাশি শাপলা সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন অনেক নারীও। এক নারী সংগ্রাহক জানান, সংসারের কাজের ফাঁকে শাপলার শুঁটকি তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন, যা সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচে ভূমিকা রাখছে। ইতোমধ্যেই তিনি প্রায় ১০ হাজার টাকার শুঁটকি বিক্রি করেছেন।
আরেক সংগ্রাহক ইব্রাহিম বলেন, অন্যান্য ব্যবসায় ভালো পুঁজি লাগে, কিন্তু শাপলা ব্যবসায় কোনো বাড়তি মূলধন লাগে না। আমাদের মতো গরীব মানুষদের জন্য অন্তত বর্ষার এ দিনগুলোতে পেট পুরে খাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয় এই প্রাকৃতিক উপহার।
গ্রামবাসীরা জানান, কয়েকদিন পর পরই পাইকাররা এসে স্থানীয় বাজার থেকে প্রতি কেজি শাপলার শুঁটকি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কিনে নিয়ে যান। দিনে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা শ্রম দিয়ে একেকটি পরিবার পুরো মৌসুমে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি আয় করতে পারছেন।
শাপলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, তাজা শাপলার মতো শুকনো শাপলার শুঁটকিতেও পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফাইবার রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে অত্যন্ত কার্যকর। সাধারণ সবজির তুলনায় এটি পুষ্টি ও ভেষজগুণে সমৃদ্ধ। আলুর চেয়ে প্রায় ৭ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ এই শাপলা এলার্জি, চর্মরোগ, আমাশয় ও অ্যাসিডিটি নিরাময়েও ভূমিকা রাখে।

আব্দুর রউফ, গাজীপুর (শ্রীপুর)