গার্ল গাইডরা হবে গ্রিন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর : গাজীপুরের ডিসি
নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা ও আত্মনির্ভরশীলতার বিকাশে দীর্ঘ ১১ বছর পর গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বাড়ইপাড়ায় জাতীয় ক্যাম্প এলাকায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের ১৩তম জাতীয় গাইড ক্যাম্প ২০২৬। প্রকৃতির মাঝে তাঁবুতে বাস ও বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সাত দিনব্যাপী এ ক্যাম্প ৩ অক্টোবর শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল করিম ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতি বছরই এরকম জাতীয় গাইড ক্যাম্প হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে ও প্রতিকূল পরিবেশে সেটা হয়নি। আমরা সৌভাগ্যবান যে দীর্ঘ ১১ বছর পর এবার গাজীপুরে এই জাতীয় গাইড ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে গার্ল গাইডদের যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেই গাইডরা, আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় কমিশনার, মেয়েদের মায়েরা এখানে এসেছেন, শিক্ষকরা এসেছেন। আগামী ৭ দিন তারা বিভিন্ন বিষয়ে শিখবে।
পরিবেশ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন এই বাংলাদেশ একদিন সবুজে ভরে উঠবে, হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এখানকার জেলা প্রশাসক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই ইচ্ছা বাস্তবায়নে তার পক্ষ থেকে গার্লস গাইডদের প্রতি আহবান রাখছি- পরিষ্কার কার্যক্রমে অবদান রাখার। বর্তমানে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকার ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। গাজীপুর এই কার্যক্রমে তোমরা গার্লস গাইডরা নেতৃত্ব দেবে- এই প্রত্যাশা রাখি। সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গার্ল গাইডরা হবে গ্রিন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর।
বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার ও সাবেক গ্রেড-১ কর্মকর্তা কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এম রকিবুল হাসান। এছাড়া অনুষ্ঠানে ডেপুটি জাতীয় কমিশনার প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আহমেদ, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীসহ দেশের ১০টি অঞ্চল থেকে প্রায় ৬০০ গাইড, গাইডার ও কমিশনার এই ক্যাম্পে অংশ নিচ্ছেন। প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে চলা, দলগত কাজ, নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন এবং সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যমে কিশোরীদের আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাতেই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক