‘গণপিটুনি’ দেখানো গেলেই অপরাধ মাফ!
মারতে মারতে একজন মানুষকে মেরেই ফেলা হচ্ছে। আর ঘটনার শিকার যারা বেঁচে থাকেন, তাঁদের হয়তো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে শারীরিক আর মানসিক যন্ত্রণা। তবে এসব ঘটনার মধ্যে সবগুলো যে গণমাধ্যমে উঠে আসছে তাও না, কোনো কোনো ঘটনা থেকে যাচ্ছে আড়ালেই।
কখনো বা সন্দেহ থেকেই ঘটছে এমন ঘটনা। আবার অনেক সময় হয়তো কেন মারছেন, তাও ঠিকঠাক জানেন না। মাঝে মাঝে এতটাই ভয়ংকর আর নিষ্ঠুরতা ভর করে মানুষের মাঝে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন বলছে, গণপিটুনিতে গেল তিন বছরে প্রাণ গেছে প্রায় ৪০০ জনের। আর এ বছরের জুন পর্যন্ত ৬৯ জনের। এসব হত্যাকাণ্ডের খুব একটা বিচার হয় না বলেও উঠে এসেছে তাদের প্রতিবেদনে।
তবে দেশের প্রচলিত আইনেই এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা সম্ভব এবং তা করা হলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করেন আইন সংশ্লিষ্টরা।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আইন ঠিকই আছে... দেখেন প্রথম কথা হচ্ছে আইনের শাসন, যেটা আমরা বিশ্বাস করি এবং যেটা বাংলাদেশে আছে, সেটা হচ্ছে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি কাউকে পিটিয়ে মেরে ফেলে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আর গণপিটুনির দোহাই দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের। নোয়াখালীর মিলন হত্যার উদাহরণ টেনে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের অভিযোগ, অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এর সঙ্গে জড়িত থাকে।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই গণ বলতে কাদের বোঝানো হচ্ছে, সেই গণমানুষগুলোকে আগে খুঁজে বের করা দরকার। যতগুলো মানুষের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে একটারও কোনো বিচার হয়েছে কি না। বরঞ্চ এটা ধরেই নেওয়া হয়েছে একটা মৃত্যুকে যদি গণপিটুনি হিসেবে দেখানো যায়, তাহলে যারা এ অপরাধটি করছে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত গণপিটুনি শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে যারা অসাধু, দুর্নীতিবাজ যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আছে তাদের অর্থ উপার্জনের একটি পথ প্রশস্ত হয়ে যায়। তুমি আমাকে খুশি কর, নইলে এই যে এখানে একজন মারা গেছে এখানে তোমার নাম কিন্তু ঢুকিয়ে দিচ্ছি।’

নানা ঘটনা-দুর্ঘটনায় যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই ভুক্তভোগী মানুষের শেষ আশ্রয়, তাদের সহযোগিতার মানসিকতা আরো বাড়ানোরও তাগিদ মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যানের।
তবে এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের কারো বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগের প্রমাণ মিললে নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় বলেও দাবি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।

রোকন উদ্দিন