বাংলাদেশিরা বিশ্বে সবচেয়ে কম আবেগী!
বিশ্বের সবচেয়ে কম আবেগী বাংলাদেশের মানুষ। দেশের মানুষের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ৩৭ জনের ইতিবাচক বা নেতিবাচক আবেগ দেখা যায়। ২০১৪ সালজুড়ে ১৪৮ দেশের ওপর করা সমীক্ষার ভিত্তিতে গবেষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ‘গ্যালাপ’। প্রতিষ্ঠানটির সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে আবেগী হয় লাতিন আমেরিকানরা (দক্ষিণ আমেরিকা)। আর দেশ হিসেবে বললে বলিভিয়া ও এল সালভাদরের মানুষ।
গ্যালাপের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে আবেগী বলিভিয়া ও এল সালভাদরের মানুষ। এ দুটি দেশের মানুষের ৫৯ শতাংশই আবেগী। সমীক্ষা অনুযায়ী, এসব দেশের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ছয়জনই আগের দিন কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক আবেগের মুখোমুখি হয়েছে বলে জানায়। আর বাংলাদেশ বাদে কম আবেগ প্রদর্শনকারী ১০টি দেশের অধিকাংশই রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া দেশ। এই ১০টি দেশের মধ্যে রাশিয়াও আছে। এসব দেশের মধ্যে শুধু মিয়ানমার বাদে প্রতি ১০ জনের মধ্যে চারজন বা এর কম সংখ্যক মানুষ আগের দিন কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক আবেগের মুখোমুখি হয়েছে বলে জানায়।
আবেগী দেশের তালিকা অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ ১০ আবেগী মানুষের দেশ হলো—বলিভিয়া (৫৯%), এল সালভাদর (৫৯%), ইকুয়েডর (৫৮%), ফিলিপাইন (৫৮%), নিকারাগুয়া (৫৮%), গুয়েতেমালা (৫৮%), ইরাক (৫৮%), কম্বোডিয়া (৫৭%), কলম্বিয়া (৫৭%) ও কোস্টারিকা (৫৭%)। আর সবচেয়ে কম আবেগী মানুষের ১০টি দেশ হলো—বাংলাদেশ (৩৭%), আজারবাইজান (৩৮%), জর্জিয়া (৩৮%), মঙ্গোলিয়া (৩৮%), বেলারুশ (৩৯%), সুদান (৩৯%), লিথুয়ানিয়া (৪০%), রাশিয়া (৪০%), ইউক্রেন (৪০%) ও মিয়ানমার (৪১%)।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সমীক্ষাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ। ২০১৪ সালজুড়ে ১৪৮টি দেশের মানুষের ওপর সমীক্ষা চালায় প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি দেশের ১৫ বা এর চেয়ে বেশি বছর বয়সী এক হাজার মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য ফোনে বা মুখোমুখি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ওই সময় তাদের আগের দিনের আবেগ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সে আগের দিন কেমন কাটিয়েছে, পুরো দিন কয়বার হেসেছে, মজার কোনো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে কি না, রাগ, ক্ষোভ, দুঃখ, ব্যথা এমন কোনো অবেগের মধ্যে পড়েছে কি না—এমন কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। গ্যালপের দাবি, তাদের সমীক্ষাভিত্তিক গবেষণার তথ্য শতকরা ৯৫ ভাগই সঠিক।

অনলাইন ডেস্ক