লাউ চাষে লাখপতি!
লাউ চাষ করে লাখ টাকা মুনাফা করছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের অনেক কৃষক। বনে গেছেন লাখপতি! ফলে একের সাফল্যে অন্যে উৎসাহিত হয়ে লাউ চাষ করায় এলাকায় বাড়ছে লাউয়ের আবাদ। অল্প খরচে বেশি মুনাফা হওয়ায় লাউ চাষ আগামীতে এ অঞ্চলে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্ট কৃষি অধিদপ্তরের। ভৈরবের কৃষকদের মতো দেশের অন্যান্য এলাকার কৃষকরাও লাউ চাষ করলে লাভবান হবেন বলেও পরামর্শ তাঁদের।
ভৈরব এলাকার কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা জানান, লাউ সাধারণত শীতকালীন সবজি হলেও বর্তমানে শীতের আগে আগাম সবজি হিসেবে লাউ চাষের বেশ কদর বেড়েছে। বর্ষার শেষ এবং শীতের শুরুতে কৃষকরা এ লাউ চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে ওই সময়ের সবজির ঘাটতি পূরণে লাউ চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানালেন, লাউ চাষে গোবর, ছাই, কচুরিপানা আর পানি; এসবের বাইরে রাসায়নিক সারের খুব একটা ভূমিকা নেই বললেই চলে। তাই এক বিঘা জমিতে লাউ চাষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাউ চাষে শ্রমও তুলনামূলক কম দিতে হয়।
অপরদিকে সবজি হিসেবে ভোক্তাদের কাছে লাউয়ের প্রচুর চাহিদা এবং বাজার দর ভালো থাকায় এক লাখ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বিক্রি করা যায় প্রতি এক বিঘা জমির লাউ। এ ছাড়া প্রতি বিঘায় লাউয়ের ডগা বিক্রি করে আসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।
এসব তথ্য জানিয়ে ভৈরবের শিমুলকান্দি ইউনিয়নের পাঁচঘরহাটি এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন, আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর এলাকার কৃষক কালা মিয়া এবং একই এলাকার আপেল মিয়ার দাবি, লাউ চাষ করে তারা বেশ লাভবান হয়েছেন। এবং তাদের দেখে উৎসাহিত হয়ে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও লাউ চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।
ভৈরব উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মানসুর আহমেদ দেশের অন্যান্য এলাকার কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে জানান, ভৈরবের কৃষকদের মতো লাউ চাষে তারাও লাভবান হতে পারেন।
দু-তিন বছর ধরে ভৈরবের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা আগাম লাউ চাষ করে বেশ লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সবজির ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে এনটিভি অনলাইনকে জানান ভৈরবের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবুল কালাম। লাউ চাষ করে লাখ টাকা মুনাফায় উদ্যোগী হতে এলাকার অন্য কৃষকদের প্রতিও তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব