সংকটের মূলে শেখ হাসিনা : খালেদা জিয়া
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশ আজ গভীর সংকটে। এই সংকট রাজনৈতিক। এর স্রষ্টা আওয়ামী লীগ, নির্দিষ্ট করে বললে শেখ হাসিনা। জনগণের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন তিনি।
রাজধানীর গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন খালেদা জিয়া। আজ শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। এখন তিনি বক্তব্য রাখছেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের সব দল একমত হয়েছিল যে কোনো দলীয় সরকারে অধীনে এখানে অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নির্দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই ব্যবস্থায় কয়েকটি নির্বাচনও হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অপকৌশলের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করে স্বেচ্ছাচারী সরকার জগদ্দল পাথরের মতো জনগনের কাঁধে চেপে বসেছে। দেশ পরিচালনার নৈতিক কোনো এখতিয়ার এদের নেই। ভোটের অধিকার কেড়ে ন্যাক্কারজনক কাজ করার পর গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলার কোনো নৈতিক অধিকার তাদের নেই।’
‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিয়মরক্ষার নির্বাচন বলে জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু যথারীতি শেখ হাসিনা তার কথা ভেঙেছেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষার কোনো উদাহরণ তাদের নেই। ৫৭ বছর বয়সে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার অঙ্গীকারও ভেঙেছেন তিনি। তবু নির্বাচনের পর আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। এর পর যৌথবাহিনীর অভিযানের পর তারা এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। গুম খুন অপহরণের মাধ্যমে বিভীষীকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। বিরোধী দলমতের সব নেতা-কর্মীকে হয়রানি করা হয়। রাজনীতি করার স্বাভাবিক অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়। তবু এক বছর অপেক্ষা করেছি। বারবার আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। কারণ আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। অতীতেও আমরা সমঝোতার জন্য সব সময় এগিয়ে গিয়েছি। কিন্তু বরাবরই তারা সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। এবারও তারা অস্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে।’ বলেন খালেদা জিয়া।
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘আলোচনার ভিত্তি হিসেবে আমরা ৭ দফা তুলে ধরি। কিন্তু তারা তা নাকচ করে। এর পর্যায়ে জনগনের অধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।’
দুপুরের পর থেকেই গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে ওঠে কার্যালয়। বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের নিচতলায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ূম, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি শিমুল বিশ্বাস।
এ বক্তব্যে খালেদা জিয়া আন্দোলন কর্মসূচিসহ এ সময়ের হত্যা, গুম, খুনের বিবরণ তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উদ্বেগের কথা তিনি জানাবেন বলে এনটিভি অনলাইনকে জানিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান।
গত ৫ জানুয়ারি পল্টনের মহাসমাবেশে যোগ দিতে না পেরে অবরুদ্ধ অবস্থায় খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
কার্যালয়ের বাইরে পুলিশ অবস্থান করছে। রাস্তার দুই পাশে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে পুলিশ।

এম এ নোমান