চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলশিক্ষিকাকে পিটিয়েছে রেল পুলিশ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা রেলওয়ে স্টেশনে এক স্কুলশিক্ষিকাকে পিটিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। রোববার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই শিক্ষিকার নাম কুলসুম নাহার।
আহত অবস্থায় স্কুলশিক্ষিকাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের কেন্দুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা এবং আমনুরা ঝিলিম বাজার এলাকার সাইফুল আহম্মেদের স্ত্রী।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আহত কুলসুম জানান, রোববার সকালে তাঁর ভাই রাজশাহী থেকে আসা দুই বন্ধুকে আনতে স্থানীয় আমনুরা স্টেশনে যান। সেখানে রেলের টিটির সঙ্গে বন্ধুদের টিকেট নিয়ে তাঁর ভাইয়ের কথাকাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে রেল পুলিশের সদস্যরা কুলসুমের ভাইসহ দুই বন্ধুকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করে এবং তাঁদের একটি ঘরে আটকে রাখে।
‘পরে আমার মা আমাকে বিষয়টি জানালে আমি স্টেশনে এসে আমার ভাইকে কেন মেরেছে জানতে চাই। এ সময় রেল পুলিশের সদস্য কনস্টেবল মোশারফ তাঁর হাতে থাকা মেটাল ডিটেকটর দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেন’, বলেন কুলসুম।
এ বিষয়ে আমনুরা রেলস্টেশন মাস্টার খাইরুল ইসলাম জানান, সকালে রাজশাহী থেকে আসা দুই যুবকের কাছে টিটি টিকেট দেখতে চাইলে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। পরে টিকেট দিয়ে ওই টিকিট ফেরত চায়। কিন্তু টিটি তাদের বলে, টিকিট ফেরত দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।
এ সময় ওই দুই যুবককে রেলস্টেশনে নিতে আসা আরেক যুবক টিটিকে মারধর করে। এ সময় রেলওয়ে পুলিশের সদস্য মোশারফ তাঁদের ধরে রেলস্টেশনে পুলিশ রুমে নিয়ে আসেন।
‘ট্রেন ছাড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আমরা মীমাংসায় বসি। এ সময় কুলসুম নামের একজন এসে তাঁর ভাইকে কে মেরেছে বলে পুলিশ সদস্য মোশারফের খোঁজ করতে থাকেন। এ সময় একজন মোশারফকে দেখিয়ে দিলে তিনি তাঁকে পায়ের স্যান্ডেল খুলে মারতে যান। এ সময় ওই পুলিশ সদস্য তাঁর হাতে থাকা মেটাল ডিটেকটর দিয়ে কুলসুমকে আঘাত করেন’, বলেন খাইরুল ইসলাম।
জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। এ ছাড়া সাময়িকভাবে কনস্টেবল মোশারফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে অবহিত করবেন বলেও জানান তিনি।

শহীদুল হুদা অলক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ