আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ছে
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।
প্রস্তাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিবরণ তুলে ধরে তা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আরো দু-চারদিন অপেক্ষা করুন। দু-চারদিন পর এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে।’
আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আপিল বিভাগের বিচারপতিরা সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত। আপিল বিভাগে কতজন বিচারপতি থাকবেন তা সংবিধানে উল্লেখ নেই। তবে রেওয়াজ হলো প্রধান বিচারপতি মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যখনই আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করবেন তখনই তিনি প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠিয়ে থাকেন। প্রধান বিচারপতির প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরই আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়।’
আনিসুল হক বলেন, বর্তমানে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ ছয়জন বিচারপতি রয়েছেন। এক সময় আপিল বিভাগে সর্বোচ্চ ১১ জন বিচারপতিও ছিলেন। বিচারপতিদের বিব্রতবোধসহ কয়েকটি কারণে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেল হত্যা মামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু মামলা নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি না থাকায় প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ওই সময় আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা কতজন হবে এবং কখন নিয়োগ দেওয়া হবে, এটা শুধু মাননীয় প্রধান বিচারপতি ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। এখানে আইন মন্ত্রণালয় শুধু সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে।’
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ছয়জন বিচারপতি রয়েছেন। অপর পাঁচজন বিচারপতি হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মো ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

এম এ নোমান