রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার
রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটানো হয়েছে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মতাদর্শিক মিল থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতেই এখানে জঙ্গি আক্রমণ চালানো হয়।
আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারে বিদেশি হাত’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের প্রধান নির্বাহী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. আব্দুর রশিদ।
আব্দুর রশিদ বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির একটি হাতিয়ার হিসেবে দেশীয় মৌলবাদীদের সৃষ্টি। কিছু রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় জঙ্গিবাদের বিস্তৃতি, দেশি-বিদেশি আর্থিক ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার নজির স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক জঙ্গি দলগুলোর সাথে মতাদর্শের মিল থাকলেও বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার ব্যাপ্তি দেশীয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থেই নিয়োজিত ছিল।’
আলোচনা সভায় বক্তারা জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, জঙ্গিবাদ বিশ্বকে আতঙ্কিত করেছে এবং অনিরাপদ করেছে সাধারণ মানুষের জীবন। স্ট্যাটিস্টিকা ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে সারা বিশ্বে ৩২ হাজার ৭২৭ জন নিহত হয়েছে জঙ্গিবাদীদের আক্রমণে। অন্যদিকে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত ফিজিশিয়ান্স ফর সোস্যাল রেসপনসিবিলিটির প্রতিবেদন বলছে, টুইন টাওয়ারে হামলার পর মার্কিনিদের ওয়ার অন টেরর ঘোষণা হওয়ার পর থেকে বিশ্বে ১৩ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
অবশ্য এর বিরোধিতা করে আরেকটি পক্ষ বলছে, এই সংখ্যা ২০ লাখের ওপরে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে।
অবশ্য বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন বলে জানান বক্তারা। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা ও সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘বিদেশি ইন্টারফেরেন্সের ব্যাপারটি বোঝার ব্যাপার আছে। একই সাথে আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই হঠাৎ করে আইএসের ব্যাপার নিয়ে বলবেন, খুব গভীরে না প্রবেশ করে মন্তব্য করে ফেলা এটাও ভুল। বিশ্বের মোড়ল টোড়ল যারা আছে তাদের, আজকের এই বিপদটি তাদের সৃষ্টি। থ্রো দেয়ার বিট্রেয়াল, থ্রো দেয়ার ম্যানিপুলেশন, থ্রো দেয়ার সেলফ ইন্টারেস্ট।’
আলোচনায় বক্তারা আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করা এবং রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করতে পাকিস্তানসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক শক্তি বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ ইস্যুকে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই বলেও জানান বক্তারা।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে বিভিন্ন সময় বিদেশিদের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে এখানে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে, কমছে না।
গোলটেবিল আলোচনা থেকে জঙ্গিবাদ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধসহ বেশ কিছু পরামর্শ উঠে আসে।

নিজস্ব প্রতিবেদক