‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা প্যাকেট হয়ে গেছেন’
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকই কোনো না কোনো দলের মোড়কে প্যাকেট হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন কলামিস্ট, লেখক ও নৃবিজ্ঞানী অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ।
গতকাল রোববার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত ‘জাতীয়তাবাদ ও ধর্ম’ শীর্ষক সম্মেলনের মুক্ত অধিবেশনে এ মন্তব্য করেন বিশিষ্ট এই নৃবিজ্ঞানী। রেহনুমা আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকই প্যাকেট হয়ে গেছেন—হয় আওয়ামী লীগ নয়তো বিএনপির মোড়কে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকই মেরুদণ্ডহীন। আর তাই বাংলাদেশ ঘুরপাক খাচ্ছে। পরিবর্তনের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন নতুন লোক প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে নৃবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের শেষ দিনে গতকাল সকালে ‘লিঙ্গ ও জাতিগত রাষ্ট্র’, ‘বহুবিধ পরিচয় নির্মাণ ও জাতি-রাষ্ট্রের ভূমিকা’, ‘শাহবাগ : জাতি ও জাতীয়তাবাদ’, ‘ধর্ম, বিশ্বাস ও ধার্মিকতার আন্দোলন’ শীর্ষক চারটি অধিবেশনে ১২টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
গতকাল বিকেলে মুক্ত অধিবেশনের আলোচনায় অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানার সভাপতিত্বে অংশ নেন অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম, অধ্যাপক প্রশান্ত ত্রিপুরা ও অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ।
এর আগে সম্মেলনের প্রথম দিন শনিবার ‘বহুজাতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মের চর্চা’, ‘জাতিতত্ত্ব, সংখ্যালঘু ও পরিচয়ের রাজনীতি’, ‘ধর্মনিরপেক্ষ ও ঐতিহ্য’, ‘সমসাময়িক বিশ্বে হিজাবের চর্চা’ শীর্ষক চারটি অধিবেশনে ১৩টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
সম্মেলনটিতে দেশের প্রায় ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষক, গবেষক এবং শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, সমসাময়িক বিশ্ব এবং বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে জাতীয়তাবাদ ও ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়। উত্তর উপনিবেশবাদ পর্যায়ে জাতীয়তাবাদ নতুন রূপে আবির্ভূত হচ্ছে এবং একাডেমিক ও রাজনৈতিক চর্চার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। একই সময়ে পশ্চিমা ধর্ম ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ এবং আধ্যাত্মিকতায় বিবেচিত হচ্ছে। ‘জাতীয়তাবাদ’ ও ‘ধর্ম’ সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে এ দুটির পারস্পরিক সম্পর্ক উন্মোচন করার উদ্দেশ্যেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

জাবি সংবাদদাতা