অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে এসএসসি পরীক্ষা!
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে পপি (আক্তার)। এ পর্যন্ত হওয়া সব পরীক্ষা সে ঠিকভাবেই দিয়েছে। আজ মঙ্গলবারের পরীক্ষার আগে শুরু হয় বিপত্তি।
গতকাল সোমবার বিকেলে হঠাৎ অ্যাপেন্ডিকসের ব্যথায় আক্রান্ত হয় পপি। এর পর রাতে মানিকগঞ্জের ইউনাইটেড হাসপাতালে তাঁর অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করা হয়। এর পর রাত পেরিয়ে আজ সকালে অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় সে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে পপি। আজকের সময়সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি বিষয়ে পরীক্ষা দেয় সে।
পপি শিবালয় উপজেলার রামনগর গ্রামের সবজাল উদ্দিনের মেয়ে। মেয়ের পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে বাবা জানান, তিন মেয়ের মধ্যে পপি মেজো। বিদ্যালয়ে তার রোল নম্বর ৬। প্রথমদিন থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ভালোভাবে অংশগ্রহণ করেছে পপি। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বাড়িতে হঠাৎ পেটে প্রচণ্ড ব্যথায় ছটফট করতে থাকে সে। দ্রুত তাকে মানিকগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. জিয়াউর রহমান স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস নিশ্চিত হন। এরপর রাত ৮টার দিকে সেখানে তার সফল অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক। তাকে স্যালাইন দিয়ে অন্তত ১০ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরামর্শও দেন এই চিকিৎসক। কিন্তু জীবন থেকে একটি বছর ঝরে যাবে এই আশঙ্কায় পপি আজকের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য কান্নাকাটি করে। বিয়ষটি নিয়ে চিকিৎসক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করেন।

মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের সহকারী সচিব আইয়ুব আলী জানান, নীতিমালা অনুযায়ী কেন্দ্রের ভেতর অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে চিকিৎসক, পরিদর্শক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের উপস্থিত থেকে পপির পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
মহাদেবপুর সাব সেন্টারের স্বাস্থ্যকর্মী তাসলিমা আক্তার জানান, অস্ত্রোপচারের পরের দিন পরীক্ষা দেওয়া অনেক ঝুকিপূর্ণ। কারণ, রোগীকে মুখে খাবার দেওয়া যাচ্ছে না। গ্লুকোজ স্যালাইন দিয়ে রোগীকে রাখা হয়েছে। পরীক্ষার সময় ওই রোগীর কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়। পরীক্ষা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে আবার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা শেষে পপি আক্তার জানায়, পরীক্ষা দেওয়ার সময় তার মাথা ঝিমঝিম ও হাত কেপেছে। তারপরও ১০০ নম্বরের উত্তরপত্র লিখেছে সে। আগের সবকটি বিষয়ের মতো আজকেরটিও ভালো ফলাফল আশা করছে সে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ