পঞ্চগড়ে শৈত্যপ্রবাহ, কমেনি শীতের তীব্রতা
নতুন বছরের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলের শীতপ্রবণ জেলা পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি বেড়েছে। ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস থাকলেও সূর্য ওঠার পর কুয়াশা কেটে যায়। তবে রোদ উঠলেও শীতের তীব্রতা খুব একটা কমেনি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) একই সময়ে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মাত্র ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কনকনে ঠান্ডার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটছে পঞ্চগড়ে। সকালে ঠান্ডা বাতাসের কারণে মানুষ কাজে বের হতে দেরি করছে। শীতের প্রভাব পড়েছে যানবাহন চলাচলেও। ভোরের দিকে হালকা কুয়াশার কারণে অনেক চালককে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
শীতের তীব্রতায় প্রভাব পড়েছে মানুষের স্বাস্থ্যে। জেলার হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের নার্স রিনা বেগম বলেন, ঠান্ডাজনিত জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টের রোগী প্রতিদিনই আসছে।
রোগীর স্বজন শামসুল হক বলেন, ঠান্ডার কারণে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কয়েক দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আরেক রোগীর স্বজন সালমা খাতুন বলেন, শীতের কারণে শিশুদের অসুস্থতা বেড়ে গেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। বর্তমানে এটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। আরও শীতবস্ত্রের চাহিদা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক কাজী সাইমুজ্জামান বলেন, শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ফাহিম হাসান, পঞ্চগড় (সদর-আটোয়ারী-বোদা)