‘প্রেমে রাজি না হওয়ায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ’, ৬ দিন পর উদ্ধার
মানিকগঞ্জ শহরের দক্ষিণ সেওতা এলাকার অপহৃত স্কুলছাত্রী মাবিয়া আক্তারকে (১৩) উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণের ছয় দিন পর গত রাতে জেলার দৌলতপুর উপজেলার কাকরাই গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত রোববার সকালে কাকরাই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০) ও তাঁর সহযোগীরা মাবিয়াকে অপহরণ করে।
এ ঘটনায় সাইফুল ও তাঁর মা, বোন, চাচাতো ভাই ও বন্ধুকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন ওই স্কুলছাত্রীর মা বুলবুলি আক্তার। মাবিয়া দক্ষিণ সেওতা এলাকার মামুন মিয়ার মেয়ে এবং মানিকগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বুলবুলি আক্তার সাংবাদিকদের জানান, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে মাবিয়াকে প্রায়ই প্রেমের প্রস্তাব দিত সাইফুল। এতে রাজি না হওয়ায় মেয়েটিকে নানা হুমকি ও অপহরণের ভয়ভীতি দেখাত সে।
একপর্যায়ে গত রোববার সকাল ৭টার দিকে মেয়েটিকে বাসার সামনে থেকে সাইফুল ও তার সহযোগীরা অপহরণ করে।
এ ঘটনায় মেয়েটির মা সদর থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এর পর গত রাত ১০টার দিকে সাইফুলের বাড়িতে মেয়েটিকে আটকে রাখার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মেয়েটিকে উদ্ধার করা হলেও পালিয়ে যায় বাড়ির লোকজন। রাতেই সাইফুল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিজে থানায় গিয়ে অপহরণের মামলা করেছেন বলেও জানান বুলবুলি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল-মামুন জানান, অপহরণের পর মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না, তা জানতে মেয়েটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ধর্ষণ হয়নি বলে সেখানে মেয়েটি ও স্বজনরা লিখিতভাবে আবেদন করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাননি। এ ঘটনায় তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে ও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান আল-মামুন।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ