প্রধান বিচারপতিকে হেফাজতের স্মারকলিপি
বাংলাদেশের সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, যুগ্ম আহ্বায়ক মওলানা মুজিবুর রহমান হামেদিসহ সংগঠনটির অনেক নেতাকর্মী।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘একাত্তরের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে ঘোষণা করেছিলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। ১৯৭২ সালে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবেই তিনি ওআইসি সম্মেলনে যোগ দেন।’ এতে আরো বলা হয়, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিষয়টি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতির সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘ ২৮ বছর সংবিধানে বর্তমান রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের কোনো উদ্যোগ এ দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না।’
সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের ওপর আজ দুপুরে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চে এ শুনানি হবে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করবেন ড. কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে থাকবেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
১৯৮৮ সালের ৫ জুন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। সংশোধনীতে ২(ক) অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করিবেন।’ একই বছরের ৯ জুন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মধ্য দিয়ে এটা আইনে পরিণত হয়।

ওই বছরের আগস্টে স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেনসহ দেশের ১৫ বিশিষ্ট নাগরিক এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। দীর্ঘদিন পর ২০১১ সালের ৮ জুন হাইকোর্টে একই বিষয়ে ফের সম্পূরক আরো একটি আবেদন করে রিটের শুনানির আবেদন করা হয়। পরে ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারি করেন।
রুলে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মের মর্যাদা দেওয়া কেন অবৈধ, বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও আইন সচিবকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। রুলের জবাব দাখিলের পর গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রিট আবেদনকারীদের অপর একটি আবেদনে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করে দেন। পরে ওই রুল শুনানির জন্য আদালতের নজরে নেওয়া হলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বৃহত্তর এই বেঞ্চ ২৭ মার্চ দিন ধার্য করেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট অনুযায়ী আজ এই রুলের শুনানি হবে।
রিট আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নানা ধর্ম বিশ্বাসের মানুষ বাস করে। এটি সংবিধানের মূল স্তম্ভে বলা হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রধর্ম করে অন্যান্য ধর্মকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভিন্ন জাতীয় চরিত্রের প্রতি ধ্বংসাত্মক।

অনলাইন ডেস্ক