নারীর ক্ষমতায়নে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন জরুরি
ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর দক্ষতা অর্জন ও অংশগ্রহণ জরুরি। আইসিটির অর্জনকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগোলেই তা টেকসই ও স্থায়ী হবে।
আজ মঙ্গলবার পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসফে) আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারে এমন বক্তব্য তুলে ধরেন বক্তারা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পিকেএসএফ অডিটরিয়ামে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
পিকেএসএফ সভাপতি ড. খলীকুজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে সারা দেশ থেকে সংগঠনটির ১৫০টির মতো সহযোগী সংস্থার নারী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ রিসার্স ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ।
প্রবন্ধে তিনি বলেন,‘পৃথিবীর বহু দেশ রয়েছে যেগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি বা আইসিটি খাতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৫৯ শতাংশের উপরে। অথচ বাংলাদেশ বর্তমানে ৫ শতাংশের মতো নারী এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাও সেটি কেবল শহর কেন্দ্রিক। মফস্বল বা গ্রামের নারীদের মধ্যে সে হার আরো কম।’
এ সময় ড. নাজনীন তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রক্ষাপটে নারী পুরুষের বৈষম্যের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন।
পিকেএসএফের সদস্য অধ্যাপক শফিক আহমেদ বলেন,‘নারীর ক্ষমতায়নের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে নারী-পুরুষের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের যে লক্ষ্য তা কেবল কাগজ-কলমেই থেকে যাবে। এ জন্য মানসিক পরিবর্তনের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন,‘নারীদের কেবল সমতা নয় বরং আগে সাম্য নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রাপ্য অধিকারগুলো আগে দিতে হবে। তারপর প্রশ্ন আসবে সমতার। আর এ জন্য নারী-পুরুষ উভয়ের প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে মানবিক গুণাবলির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। শুধু মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে নারীকে তার প্রাপ্ত সম্মান দিলে দেশ তথা জাতি সর্বোপরি সভ্যতার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।’

নিজস্ব সংবাদদাতা