পঞ্চগড়ে আ. লীগের বিরুদ্ধে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগ
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ভোটারকে মারপিট করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আজ বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী খয়রুল আলম খানের সমর্থকরা ওই কেন্দ্রের ২, ৩ ও ৫ নম্বর কক্ষের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে জোর করে দুই শতাধিক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন কবির প্রধানের ভোটারদের মারপিট করে ভোট দিতে বাধা দেয়। এ সময় কেন্দ্রের দায়িত্বরত আনসার পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা কোনো প্রতিরোধ করেনি।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন কবির প্রধান, তাঁর পোলিং এজেন্ট সামিউ ও ভোটার দুলাল চন্দ্র অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী খয়রুল আলম খানের সমর্থক শিক্ষক সোহরাব আলী, এন্তা, ভুট্টোসহ ১০-১৫ জন যুবক বিভিন্ন কক্ষে প্রবেশ করে দুই শতাধিক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পাছপীর ইউনিয়নের আমজানিপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেন জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থক নুনতুল তাঁকে ভোট দিতে বাধা দেয়। এ সময় তাঁকে মারপিট করে শার্ট ধরে টেনে- হিচড়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হুমায়ুন কবির প্রধানের পোলিং এজেন্ট সামিউলকে কক্ষ থেকে বের করে দেয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা কক্ষে শুধু ইউপি সদস্য ও নারী আসনের প্রার্থীদের ব্যালট পেপার থাকলেও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর কোনো ব্যালট পেপার ছিল না। অনেক মহিলা এ সময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে ভোট দিতে পারেননি।
কেন্দ্রে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবর রহমান ব্যালট ছিনতাই ও ভোটারদের মারপিট করার বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু রাফা মো. আরিফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীন মোহাম্মদসহ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওই কেন্দ্রের ৫ নম্বর কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার সোলায়মান আলী বলেন, কয়েকজন যুবক ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ারম্যানের প্রায় ৮০টি ব্যালট পেপার জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
তিন নম্বর কক্ষের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ইউনুস আলী চেয়ারম্যানের প্রায় ১৫-২০টি ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
ওই কেন্দ্রের আরেক প্রিজাইডিং অফিসার প্রফুল্ল চন্দ্র কিছু ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে পারেননি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু রাফা মো. আরিফ হোসেন ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এসব ব্যালট চিহ্নিত করে বাতিল করা হবে। নতুন করে ব্যালট এনে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।

সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, পঞ্চগড়