নির্বাচনী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াল আ. লীগ
নৌকা প্রতীককে সমর্থন করায় নির্মম অত্যাচারের শিকার হতে হলো মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষকে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।
আজ রোববার আওয়ামী লীগের নেতারা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ইউনিয়নের কালিগঞ্জসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর দেখেন এবং ভুক্তভোগীদের কথা শুনেন। এ সময় তাঁরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আর্থিক অনুদানের ঘোষণাও দেন।
এ সময় একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, শুধু নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় প্রতিপক্ষ বিজয়ী প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলন সরদারের সমর্থকরা বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
নির্বাচনের পর ভুক্তভোগীদের ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি হাট-বাজারে গেলেও হামলা করা হয়। নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শুনে কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী বলেন, এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এর শাস্তি অপরাধীকে পেতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
এ সময় কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিলুর রহমান সোহাগ তালুকদার বলেন, নির্বাচনে হারজিত রয়েছে। তাই বলে এমন নির্মম অত্যাচারের কোনো মানেই হয় না। এটা একাত্তর সালের অত্যাচারকেও হার মানিয়েছে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কালকিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম দেলোয়ার হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক আশ্রাব আলী বেপারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বেলাল সরদার, আলীনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান হাওলাদার, আলীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মন্নান হাওলাদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান বুলেট প্রমুখ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, নির্বাচনের পরের দিন যে সহিংসতা চালানো হয়েছে এটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে কয়েকটি মামলাও হয়েছে। এরই মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আলীনগর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান সাহীদ পারভেজ হাওলাদার। আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাফিজুর রহমান মিলন সরদার। নির্বাচনে মিলন সরদার বিজয়ী হলেও নির্বাচনের আগে এবং পরে একের পর এক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের সমর্থকরাই আহত হয়।
এ নিয়ে মিলন সরদারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে থানায় ছয়টি মামলাও দাখিল করা হয়। কিন্তু তাতেও এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে তা থামছে না।

এম. আর. মুর্তজা, মাদারীপুর