‘নজরদারি প্রযুক্তি সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ
বাংলাদেশে নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার সংস্কার ও নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষার লক্ষ্যে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’ তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কমিটি জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি প্রাণরক্ষা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনা করে মোট ৮টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে ৮টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে প্রধান প্রস্তাবনাগুলো হলো- বিতর্কিত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্তির প্রস্তাব করা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১-এর ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ এবং ৯৭গ ধারাগুলোর আমূল সংস্কারের বিস্তারিত পথরেখা দেওয়া হয়েছে ও বর্তমানে প্রচলিত স্বচ্ছতাহীন ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি অডিট-চালিত ‘টু-লেয়ার ট্রান্সপারেন্সি মডেল’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়াও অতীতের গুম, বেআইনি আটক এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের পাশাপাশি অপরাধ দমনে নজরদারি প্রযুক্তির সফলতাকে আমলে নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। কমিটির মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান নজরদারি ব্যবস্থার কাঠামোগত ঝুঁকি ও শাসনগত ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে একটি মানবাধিকারবান্ধব আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) দিকনির্দেশনা এবং বৈশ্বিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে এই সংস্কারপথ উপস্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কমিটির প্রস্তাবনার আলোকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই টেলিযোগাযোগ আইনের সংশোধিত সংস্করণ গেজেটভুক্ত করেছে।
এই প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে পরস্পরবিরোধী না ভেবে বরং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে দেখার একটি নীতিগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক