শেষ ধাপের ইউপি নির্বাচন আজ
ষষ্ঠ ও শেষ ধাপে সাত শতাধিক ইউপিতে ভোট আজ শনিবার। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এসব ইউপিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে।
ষষ্ঠ ধাপের ভোটগ্রহণের জন্য গতকাল শুক্রবার বিশেষ নিরাপত্তায় জেলা থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
শেষ ধাপের ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক প্রার্থী এ ধাপে কেন্দ্র দখল,ব্যালট ছিনতাই হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এ ধাপে ৭২৩টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত হিসাবে এ সংখ্যার কমবেশি হতে পারে। ষষ্ঠ ধাপে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তিন হাজারের বেশি। এ ধাপেও ২৮ জন একক প্রার্থী হিসেবে ভোটের আগেই নির্বাচিত হয়ে গেছেন। তবে আগের পাঁচটি ধাপে বিনা ভোটে নির্বাচিত ১৯৩ জনের সবাই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হলেও ষষ্ঠ ধাপে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ সফলতা পেয়েছেন।
ইউপি নির্বাচনের ষষ্ঠ ধাপে এসে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক ব্যবস্থা’ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার সাত শতাধিক ইউপিতে ভোটের আগের দিন এ নির্দেশ এলো।
এর আগে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শতাধিক লোকের প্রাণহানি, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, আগের রাতে সিল মারাসহ নানা অনিয়মের পর ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ চাইল ইসি।
সেই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগে টাঙ্গাইলে এক এএসপি এবং ঝিনাইদহে ওসি পর্যায়ের দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।
ফেব্রুয়ারিতে প্রথম পর্বের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০০ জনের প্রাণহানির তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে। সহস্রাধিক আহত ও গোলযোগ, অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
সহিংসতা-অনিয়ম অব্যাহত থাকায় শেষ ধাপের ভোট নিয়েও শঙ্কায় সংশ্লিষ্টরা। সহিংসতা-অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সমালোচনার মুখে রয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটিও।
প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক ইউপি ভোট হচ্ছে। অনিয়ম-সহিংসতা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছে। সেই সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে দাবি করে এলেও ‘তামাশার ভোট’ বলে অভিযোগ করে আসছে বিএনপি।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও হতাশ এত সহিংসতায়। ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’ উপলব্ধি করে শেষটায় সরকার আলাদা উদ্যোগ নেবে বলে মনে করেন তাঁরা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদও সহিংস ভোট নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তার অভিযান’ ভালো না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে আঙুল তোলেন।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল শুরু করেছেন। তাঁরা থাকবেন ভোটের পরের দিন পর্যন্ত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রয়েছে নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম। এর মধ্যেও ভোটকেন্দ্র দখলের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং প্রায় প্রতিটি ইউপির বিএনপির প্রার্থীরা। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বন্ধ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। ভোট শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার, সভা-সমাবেশ ও শোডাউন নিষিদ্ধ। ভোটের পর ৪৮ ঘণ্টাও কোনো মিছিল করা যাবে না। প্রচারের সময় শেষ হওয়ার আগে বহিরাগতদের ছাড়তে হবে নির্বাচনী এলাকা। ভোট উপলক্ষে এদিন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় থাকছে সাধারণ ছুটি।
গোলযোগ-সহিংসতার মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় এ নির্বাচনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বৃহস্পতিবার মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২০ জন করে নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত রাখা হচ্ছে এবারও। ভোটের আগের দুদিন থেকে ভোটের পরদিন পর্যন্ত চারদিন থাকবেন তাঁরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা সদস্য বাড়াবে স্থানীয় প্রশাসন। দলভিত্তিক এ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাইসহ সুষ্ঠু ভোটের বিষয়ে কঠোর অবস্থান না নেওয়ায় সমালোচনার মুখে রয়েছে ইসি।

নিজস্ব প্রতিবেদক