নওগাঁয় নিখোঁজের ৪ দিন পর লাশ উদ্ধার
নওগাঁয় সদর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় আজ শনিবার সকালে তুহিন সরদার (৩৫) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, মাত্র ১৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তুহিনকে হত্যা করে লাশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। এদিকে লাশ উদ্ধারের পরপরই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে স্থানীয় আবদুল মজিদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকিরুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে তুহিন গত ৬ জুন সোমবার গাক নামের একটি সমিতি থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করেন। দুই হাজার টাকা দেনা পরিশোধ করে পর দিন ৭ জুন মঙ্গলবার বেলা দেড়টায় ১৮ হাজার টাকা নিয়ে গরু কেনার জন্য রানীনগর উপজেলার ত্রি-মোহিনী হাটের উদ্দেশে রওনা দিয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পারিবারিকভাবে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তুহিন গ্রামে যাঁদের সঙ্গে মেলামেশা করেন তাঁদের সবার কাছে খোঁজ করা হয়।
ওসি জানান, ঘটনার চারদিন পর আজ শনিবার সকালে নাম প্রকাশে না করার শর্তে এক গ্রামবাসী জানান যে, কয়েক দিন আগে আবদুল মজিদের বাড়ির আঙিনায় কোদাল দিয়ে মাটি খনন করা হয়েছে। এই জায়গায় মাটি খনন করলে তুহিনের লাশ পাওয়া যেতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর থানা পুলিশকে সংবাদ দেওয়া হয়। পুলিশ স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আজ শনিবার সকালে ওই গ্রামের মৃত মফিজ ফকিরের ঘরজামাই আবদুল মজিদের বাড়ির আঙিনায় ওই স্থানে খুঁড়ে তুহিনের দুর্গন্ধযুক্ত লাশ উদ্ধার করে। এরই মধ্যে খননের প্রস্তুতি নেওয়ার খবর শুনেই মৃত মফিজ ফকিরের ছেলে হাসান ও তাঁর ঘরজামাই ভগ্নিপতি আবদুল মজিদ পরিবার নিয়ে পালিয়ে যান।
লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে হাসান, সদরুল ইসলামের ছেলে জাকারিয়া, মৃত আবদুল গফুরের ছেলে শুকুর আলী, হাসানের মা হাসনা বেগম ও স্ত্রী বর্ণাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই ১৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। কারণ যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা সব সময় তুহিনের সঙ্গে মেলামেশা করত।
এদিকে লাশ উদ্ধারের পর পরই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে আবদুল মজিদের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এ বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি মো. জাকিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ উদ্ধার ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ