ছাত্রলীগের বাধায় কলেজ জাতীয়করণ নিয়ে মানববন্ধন পণ্ড
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আমিনুর রহমান কলেজকে জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন করতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় ছাত্রলীগের একটি অংশ বাধা দিয়ে ব্যানার কেড়ে নিয়ে যায়। পরে শিক্ষকরা সংবাদ সম্মেলন করে কলেজ জাতীয়করণের দাবি জানান।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচি ডাকে কর্তৃপক্ষ। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় ছাত্রলীগের একাংশ মানববন্ধন করতে বাধা দেয়। তারা কর্মসূচির ব্যানারও নিয়ে যায়। এ নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেয় সেখানে। শিক্ষকরা ছাত্রলীগ নেতাদের একাধিকবার অনুরোধ জানিয়ে বাধা দূর করতে পারেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে যায় মানববন্ধন কর্মসূচি।
পরে বেলা ৩টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওসমান আলী। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সাড়ে সাত একর জমির ওপর আমিনুর রহমান কলেজটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৪০০। কলেজে তিনটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। ১৯৮৫ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৫৯ জন। বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের ক্ষেত্রে সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও কলেজটি জাতীয়করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ এলাকার সচেতনমহল ক্ষুব্ধ হন। অথচ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত ননএমপিও একটি নতুন কলেজ জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত হয়েছে।
উপজেলার প্রথম ও প্রাচীনতম আমিনুর রহমান কলেজকে অবিলম্বে জাতীয়করণের দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।
এ সময় কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাগুরা ও মহম্মদপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার ব্যাপারে মহম্মদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ঈদুল শেখ বলেন, ছাত্রলীগের কেউ মানববন্ধনে বাধা দেয়নি। কলেজের ছাত্রছাত্রীদের আগে থেকে না জানিয়ে হঠাৎ করে মানববন্ধন করতে গেলে তারা তাতে শামিল হয়নি বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওসমান আলী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা কর্মসূচির ব্যানার নিয়ে যায় এবং তারাই মানববন্ধন করতে দেয়নি।

শফিকুল ইসলাম শফিক, মাগুরা