আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তায় নামলেন হাজারো এলাকাবাসী
জয়পুরহাটের সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এ কে আজাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে।
‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আসামি ও তাদের মদদদাতাদের গ্রেপ্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টায় জয়পুরহাট শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন হাজারো এলাকাবাসী।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিতে গ্রাম থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে জয়পুরহাট শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে শুরু করে আশপাশে এলাকার তীব্র জানযট সৃষ্টি হয়। ওই সময় যানবাহন ও পথচারি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় কর্তব্যরত ট্রাফিক ও পুলিশ সদস্যদের।
আজাদ হত্যার এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ও মদদদাতারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসী এ সময় তাঁদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমজাদ হোসেন, জয়পুরহাট জেলার জাতীয় পার্টির নেতা তিতাস মোস্তফা, সিপিবি নেতা দেওয়ান বদিউজ্জিামান, জাসদ নেতা আমেজ উদ্দীন, ওয়ার্কার্স পাটির নেতা আনোয়ারুল হক বাবলু, বাসদ নেতা অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, নিহতের ভাই মুকুল মাস্টার, সরোয়ার হোসেন স্বাধীন এবং মুকুল মাস্টারের মেয়ে শাওনসহ অন্যরা।
অবিলম্বে আজাদ হত্যার প্রধান আসামি এবং তাদের মদদদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান বক্তারা। তা না হলে ভবিষ্যতে আরো বড় কর্মসূচির ঘোষণা দেন তাঁরা।
গত ৩১ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে আজাদকে গত ৪ জুন রাতে একদল মুখোশধারী দুর্ববৃত্ত নির্মমভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করে। আটদিন পর ১২ জুন রোববার ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ঢাকার পপুলার হাসপাতালে মারা যান।
আজাদ হত্যা মামলার দুই আসামি পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন এবং তিন আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তবে তাঁদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এ ঘটনার প্রধান আসামি এবং তাদের মদদদাতাদের গত এক মাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

শাহজাহান সিরাজ মিঠু, জয়পুরহাট