‘নীরব বিপ্লব’ ঘটাতে বললেন খালেদা জিয়া
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপ্লব ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকার ঢাকা সিটি করপোরেশনকে পৃথিবীর দূষণ ও বসবাসের অযোগ্য নগরীর তালিকায় শীর্ষ দুই নম্বরে নিয়ে এসেছে। আমরা ঢাকা মহানগরীকে সর্বস্তরের জন্য বসবাসযোগ্য করব। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সমস্যা নিরসন করব।’
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে। সরকার অনুমতি দেয়নি। এমন এক দেশে বাস করি, যেখানে কথা বলার অধিকার, চলাচলের অধিকার নেই। পদে পদে শুধু নির্যাতন। গুম, খুন নিত্যদিনের ঘটনা। এমন অবস্থায় সরকার সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘোষণা করে। ভেবেছিল আমরা নির্বাচনে আসব না। কিন্তু আমাদের আন্দোলন জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করার জন্য।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘যতগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে সবগুলোতে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছে। এবং ভালো ফলাফল করেছে। এই সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ হয়ে গেছে যে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। এই জালিম, অত্যাচারী, গুম, খুনের সরকারকে আর দেখতে চায় না। সে জন্য মানুষ পরিবর্তন চায় এবং ঢাকা সিটিতেও ইনশাল্লাহ অন্যান্য জেলার মতো পরিবর্তন আসবে।’
খালেদা জিয়া আরো বলেন, ‘নিজেরা আইন লঙ্ঘন করে সব কিছু করে যাচ্ছে আর আমাদের প্রতি পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে। তাই আমি জনগণের কাছে আহ্বান করব-জনগণ এ পদে পদে বাধা সৃষ্টির নীরব বিপ্লব আপনারা ঘটাবেন এবং মগ মার্কায় ভোট দিয়ে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে এই জালিম সরকারকে আপনারা দেখিয়ে দেবেন যে জনগণ কী করতে পারে।’
ঢাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এ সরকার অবৈধ। আইন লঙ্ঘন করে চলেছে। আপনারা নীরব বিপ্লব ঘটাবেন বাস ও মগ মার্কায় ভোট দিয়ে। জালিম সরকারকে দেখান জনগণ কী করতে পারে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির সফলতা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, ‘যতগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে, বিএনপি ভালো করেছে। সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, খুলনা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি জিতেছে। প্রমাণিত হয়েছে মানুষ পরিবর্তন চায়, জালিম সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়।’
বিএনপির চেয়ারপাসন বলেন, ‘মির্জা আব্বাসকে আপনারা আগেও ভোট দিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আব্বাসকে ভোট দিয়ে আবারও সেবা করার সুযোগ দিন।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের জন্য ভোট চেয়ে খালেদা জিয়া বলেন, তাবিথ অনেক শিক্ষিত, বাইরে থেকে পড়াশোনা করা। তাঁর নিজের ব্যবসা আছে। তাঁর তো প্রয়োজন ছিল না এখানে আসার। তবুও এসেছে। তাঁর কাছে নগর নিয়ে নতুন ভাবনা আছে।’
এ সময় মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস ও তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ।
বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি সাত মিনিট বক্তব্য দেন।
এর আগে দুপুর থেকেই বিএনপির কার্যালয় ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিকেল ৪টার পর থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। খালেদা জিয়ার প্রবেশের পর নেতা-কর্মীদের ভিড় কার্যালয় ছাড়িয়ে সামনের রাস্তায় এসে পড়ে। কার্যালয়ের সামনের রাস্তা দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি।
জাসাসের অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৪টায়। জাসাসের কর্মীরা দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন।
গত ৫ জানুয়ারি থেকে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ ছিলেন খালেদা জিয়া। তিন মাস পর ৫ এপ্রিল নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’য় ফিরে যান তিনি।

সৈয়দ সামিউল বাশার