তামিম চৌধুরীসহ পাঁচ জঙ্গি ভারতে!
বাংলাদেশে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গিসংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) কমপক্ষে পাঁচজন জঙ্গি ভারতে চলে গেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে আছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী, যাকে বাংলাদেশে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সমন্বয়ক বলে মনে করা হয়।
ভারতের পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সম্প্রতি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) পক্ষ থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়া সর্বশেষ তালিকায় এই পাঁচজনের নাম রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভারত সফরের একদিন আগে এ নামের তালিকা প্রকাশ পায়। আর এ বিষয়টিই ছিল গত বৃহস্পতিবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গতকাল শুক্রবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রকাশিত খবরে বলা হয়, তিনদিন আগে র্যাব নিখোঁজ ৬৮ জনের একটি সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে। ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী এই নিখোঁজরা ২০১১ সাল থেকে নিখোঁজ বলে উল্লেখ করা হয়। এঁদের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচজন সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে র্যাবের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
এদিকে রাজধানী গুলশানে গত ১ জুলাই ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত থাকা পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে ভারত রেড অ্যালার্ট জারি করে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার কমপক্ষে পাঁচজন সন্দেহভাজন জেএমবি সদস্যের তালিকা ভারতের হাতে দিয়েছে, যাঁরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে ঢুকেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। দুই মাস আগে, চিরাং জেলায় জেএমবির একটি শিবিরে হানা দেয় আসাম পুলিশ। ওই শিবির ব্যবহার করে স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
তামিম চৌধুরী ছাড়াও র্যাবের তালিকায় অন্য চারজন হলেন কুমিল্লার জুন্নুন শিকদার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাজিবুল্লাহ আনসারী, লক্ষ্মীপুরের এ টি এম তাজউদ্দিন এবং ঢাকার নবীনগরের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি ওরফে সুজিত দেবনাথ।
ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, র্যাবের হস্তান্তর করা তালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন তামিম আহমেদ চৌধুরীকে গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে মনে করা হচ্ছে। তামিম চৌধুরীর মাধ্যমেই স্থানীয় সন্ত্রাসী সংগঠন জেএমবির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের যোগাযোগ হয় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা। আইএসে তিনি আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ নামে পরিচিত। আইএসের ম্যাগাজিন হিসেবে পরিচিত দাবিকের জুন সংখ্যায় তাঁর একটি সাক্ষাৎকারও ছাপা হয়। সেখানে তিনি বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে আইএসের মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছিলেন। সূত্র মোতাবেক, ২০১৩ সালে কানাডা ছাড়েন তামিম। এর পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
র্যাবের তালিকার আরেকজন সন্দেহভাজন কুমিল্লার জুন্নুন শিকদার। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী জুন্নুনকে ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রথমবার আটক করেছিল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে জেএমবির সদস্য সংগ্রহের অভিযোগ ছিল। ২০১৩ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে তাঁকে আবার আটক করা হয়। ২০১৪ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান জুন্নুন।
তালিকার আরেক সন্দেহভাজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাজিবুল্লাহ আনসারী। ২০১২ সালে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তে মালয়েশিয়ায় যান তিনি। এর মধ্যেই নাজিবুল্লাহ তাঁর বড় ভাইকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, আইএসে যোগ দিতে ইরাকে যাচ্ছেন তিনি। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ ছিল না পরিবারের। সর্বশেষ গত বছর চট্টগ্রাম পুলিশ স্টেশনে তাঁর নামে নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়।
র্যাবের হস্তান্তর করা তালিকার আরেক সন্দেহভাজন এ টি এম তাজউদ্দিন। অস্ট্রেলিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালের পর তাঁর আর কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুতে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে তাঁর পরিবার।
তালিকার সর্বশেষজন মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি ধর্মান্তরিত মুসলিম। এর আগে তাঁর নাম ছিল সুজিত দেবনাথ। সুজিত ছিলেন জাপানের এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসনের অধ্যাপক। এক বছর ধরে তিনিও নিখোঁজ। তাঁর বাবা জনার্দন দেবনাথ নবীনগর থানায় এ বিষয়ে জিডি করেন।

অনলাইন ডেস্ক