শেকল ছেঁড়া হাতিকে এবার পরতে হলো ডাণ্ডাবেড়ি
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কয়রা গ্রামে বেঁধে রাখা হাতিটি দড়ি ও শেকল ছিঁড়ে ফেলায় এবার এটাকে ডাণ্ডাবেড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।
অস্থির হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকা বন্যহাতিকে আজ রোববার ফের চেতনানাশক দিয়ে ডাণ্ডাবেড়ি দিয়ে বেঁধেছেন বনকর্মীরা।
গতকাল শনিবার দিনব্যাপী অস্থির থাকা হাতি ‘বঙ্গবাহাদুর’ আজ ভোরের দিকে দড়ি ও শেকল ছিঁড়ে পুরোপুরি মুক্ত হয়ে ছুটে যায় এক কিলোমিটার দূরের পানিভর্তি খোলা মাঠে। বনকর্মীরা পরপর চারবার ট্রাঙ্কুইলাইজার (চেতনানাশক) দিয়ে সকাল ৮টার দিকে হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। সীমিত চেতনানাশক দেওয়ায় হাতিটি দাঁড়ানো অবস্থায় স্থির হয়ে থাকলে এর চার পায়ে শেকল ও ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়। চারপাশে চারটি খুঁটির টানা দিয়ে রাখা হয়েছে তাকে। এখনো হাতিটি খোলা মাঠে রয়েছে।
উদ্ধারকারী দলের প্রধান ও নেচার কনজারভেশন সোসাইটির প্রধান নির্বাহী পরিচালক ড. তপন কুমার দে বলেন, ‘হাতিটিকে বাগে আনতে আমাদের কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এর আগে কোনো বন্য প্রাণী নিয়ে আমরা এতটা সমস্যায় পড়িনি।’ তিনি বলেন, এখন যেখানে হাতিটি রয়েছে, তার চারপাশে কাদামাটি। ধারেকাছে কোনো রাস্তা নেই। এটিকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কে নিতে হলে প্রথমে ট্রাক যেতে পারে এমন বড় রাস্তায় নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে দুটি পোষা হাতি এনে এটিকে বড় রাস্তায় নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। আজ বিকেলের মধ্যে হাতি দুটি এসে পৌঁছার কথা রয়েছে। এগুলো পৌঁছলে কীভাবে হাতিকে এখান থেকে নেওয়া হবে, সে প্রক্রিয়া ঠিক করা হবে। তবে কবে নাগাদ হাতিটিকে সাফারি পার্কে নেওয়া সম্ভব হবে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি এই কর্মকর্তা।
ভারতের আসাম রাজ্যের কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের দলছুট এই বন্যহাতিটি বন্যার পানির তোড়ে গত ২৭ জুন ঢুকে পড়ে বাংলাদেশে। দেড় মাস ধরে এটি কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুরের চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। হাতিটি উদ্ধারে ৪ আগস্ট একটি ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে আসে। ৫ থেকে ৭ আগস্ট চেষ্টা করেও হাতিটিকে উদ্ধার করতে না পেরে ৮ আগস্ট ভারতীয় দল ফিরে যায়। পরে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বন বিভাগের উদ্ধারকারী দল দূরনিয়ন্ত্রিত চেতনানাশক ছুড়ে হাতিকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হলেও এটিকে এখনো স্থানান্তর করা যায়নি সাফারি পার্ক বা কোনো নিরাপদ স্থানে।

শফিক জামান, জামালপুর