নীলফামারীতে সেচ ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি প্লাবিত
নীলফামারীতে তিস্তা সেচ প্রকল্পের দিনাজপুর ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়া এলাকায় ক্যানেলের বাম তীরের প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে এই বিপত্তি ঘটে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় শতাধিক কৃষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে বোরো চাষের জন্য তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে পানি দেওয়া শুরু হয়। সোমবার বেলা ১২টার দিকে হঠাৎ ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে পানি হু হু করে লোকালয় ও ফসলি জমিতে ঢুকতে শুরু করে। এতে কামারপাড়া এলাকার অন্তত শতাধিক একর জমির বোরো বীজতলা, আলু, সরিষা, ভুট্টা ও বিভিন্ন রবি শস্য পানির নিচে তলিয়ে যায়।
ক্যানেল সংলগ্ন এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান জানান, চলতি বোরো মৌসুমের (খরিপ-১) তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে ১৫ জানুয়ারি থেকে পানি দেওয়া শুরু হয়। সেচের পানি পাওয়ার পর তিস্তার কমান্ড এলাকার দিনাজপুর ক্যানেলের দুই ধারে কৃষকরা বোরো চারা রোপণসহ বিভিন্ন ফসলে সেচ কার্যক্রম শুরু করেছেন। এ অবস্থায় সোমবার বেলা ১২টার দিকে ক্যানেলের ডান তীর বাঁধ ভেঙে তার জমিসহ পাশের অন্তত শতাধিক একর জমিতে পানির স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে।
ওই এলাকার কৃষক শরিফ ইসলাম, শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে জানান, এর আগে ২০১৫ ও ২০২৪ সালেও ক্যানেলের বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছিল। এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নীলফামারী-পঞ্চপুকুর সড়ক অবরোধ করে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন। নীলফামারীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান সেখানে গেলে কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন।
সিংদই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে এসে দেখেন তার ১০ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। এছাড়া এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে লাগানো তার আলুর ক্ষেতেরও ক্ষতি হয়েছে।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, ওই স্থানে সম্ভবত ঈঁদুরের গর্তের কারণে পাড় ২০ ফিট পর্যন্ত বিধ্বস্ত হয়েছে। সেচের জন্য ক্যানেলে পানি ছাড়ার সময় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। যেহেতু বোরো আবাদ শুরু হয়েছে, দ্রুত বিধ্বস্ত স্থানটি মেরামত করে সেচ কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে। তবে রংপুর ও বগুড়া ক্যানেলে সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় মোট ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন, নীলফামারী