‘ব্যাংক ডাকাত ও জঙ্গি’ সাইফুলের জন্য থানা ঘেরাও
ঢাকার আশুলিয়ায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনায় আটক সাইফুল ইসলাম জঙ্গি বা ডাকাত নন। তিনি সাধারণ নির্মাণশ্রমিক। একই সাথে তিনি গাজীপুর জেলা নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি। তাঁর আত্মীয়স্বজন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা।
এমনটি দাবি করে তাঁর মুক্তির দাবিতে আজ শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে আশুলিয়া থানা ঘেরাও করেন কয়েক শ নির্মাণশ্রমিক। সাইফুলকে ডাকাত সাজানোর অপচেষ্টা চলছে-এমন দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ বিক্ষোভ করেছে গাজীপুর জেলা নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়ন।
urgentPhoto
শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে টঙ্গীর একটি বাড়ি থেকে পুলিশ সাইফুলকে আটক করে। পরে তাঁর সঠিক পরিচয় ব্যবহার না করে ভিন্ন নামে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করে এবং তাঁকে ডাকাত ও জঙ্গি সাজিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করছে পুলিশ।
অবিলম্বে সাইফুলের মুক্তির দাবিতে দুপুরে কয়েক শ শ্রমিক টঙ্গীর আউচপাড়া থেকে আশুলিয়া থানায় এসে জড়ো হন। তাঁরা সংগঠনের কার্যকর কমিটির সদস্যদের নাম সম্বলিত বিশাল একটি বিলবোর্ড নিয়ে থানা ঘেরাও করেন। তাঁরা সাইফুলের মুক্তির দাবিতে নানা স্লোগান দেন ও বিক্ষোভ করেন।
এ সময় নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা সাংবাদিকদের জানান, সাইফুল কখনোই জঙ্গি ছিলেন না। তিনি সাধারণ নির্মাণশ্রমিক। তেমন কিছু হলে তাঁরা এত দূর থেকে থানা ঘেরাও করতে আসতেন না।
পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারে উদ্যত হলে বিক্ষোভকারীরা চলে যান।
যোগাযোগ করা হলে টঙ্গীতে গ্রেপ্তার অভিযানে থাকা ডাকাতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার পরিদর্শক দীপক চন্দ্র সাহা দাবি করেন, কেউ কারোর মুক্তির দাবিতে থানায় যায়নি। ঘেরাও করার খবরও সঠিক নয়। তিনি জানান, জঙ্গি আর নির্মাণশ্রমিক দুটো দুই জিনিস।
এর আগে আটকের ঘটনায় আজ দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান। তিনি জানান, আশুলিয়ায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি বাবুল সর্দার ও মিন্টু প্রধানকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করার গ্রেনেড ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম, গান পাউডার, চারটি চাপাতি, আটটি ড্যাগার, পিস্তলের একটি ম্যাগাজিন, দুটি মোটরসাইকেল, ধর্মীয় বই ও প্রচারপত্র জব্দ করা হয়।
এর আগে টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন এনটিভি অনলাইনকে জানান, ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় আজ শুক্রবার সকালে গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় সাভার থানা পুলিশ খালেকের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ বাড়িটির তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে কাউকে পায়নি। পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি কক্ষ থেকে কিছু বিস্ফোরকদ্রব্য, পাঁচ-ছয়টি দা, চাপাতি ও পিস্তলের একটি ম্যাগাজিন জব্দ করে। তারা ওই এলাকা থেকে সাইফুল্লাহ নামের সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে বলে জানতে পেরেছেন।
গত মঙ্গলবার আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজারে দিনদুপুরে কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া শাখায় ডাকাতদের গুলি, বোমা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শাখা ব্যবস্থাপক, গ্রাহক, নিরাপত্তাকর্মীসহ সাতজন প্রাণ হারান। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। ঘটনাস্থলে জনতার গণপিটুনিতে এক ডাকাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় কমার্স ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

জাহিদুর রহমান