শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না : রাশেদ খান

শেখ হাসিনা বাংলার মাটিতে আর কোনো রাজনীতি করতে পারবে না। আওয়ামী লীগও আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) ঝিনাইদহের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরে আসতে হবে। তবে তিনি রাজনীতি করবেন, আর আমরা কি ললিপপ চুষব? সেটা হতে দেওয়া হবে না। বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা আর কোনো রাজনীতি করতে পারবেন না। আওয়ামী লীগও আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। আওয়ামী লীগকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে এরা শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করছে।
জাতীয় সরকারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে রাশেদ খান বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হতে হবে। আবু সাইদ-মুগ্ধরা জীবন দিয়েছেন একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করার স্বপ্ন দেখে। সেই নতুন বাংলাদেশ গঠন করার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা যদি সেই বাংলাদেশ গঠন করতে না পারি তাহলে এই গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা চাই না বারবার আমাদের বিপ্লব ব্যর্থ হয়ে যাক। চব্বিশের পর একটি সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগটা যদি আমরা কাজে লাগাতে না পারি তাহলে এই বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা এই বাংলাদেশের ধ্বংস চাই না। আমরা চাই উন্নয়ন। আমরা চাই গণতন্ত্র। আমরা চাই ন্যায়বিচার। মানবিক মর্যাদা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে রাশেদ খান আরও বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দেখছি না। এখন পর্যন্ত মারমারি-হানাহানি চলছে। বিশেষ করে গ্রাম-গঞ্জের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সরকারের উপদেষ্টারা এসি রুমের বসে থেকে সারা বাংলাদেশ কন্ট্রোল করতে চান। তাঁরা মনে করেন, সচিবালয় থেকে আমরা রিমোট বাটনে চাপ দেবো আর সারা বাংলাদেশ আটোমেটিক্যালি চলবে। এটি সম্ভব নয়।
রাশেদ খান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অনেক বেশি বেশি বিদেশ সফর করছেন। এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে ছুটে যাওয়া। উপদেষ্টারা সচিবালয়ের বাইরে আসতে পারছেন না। কী কারণ, ভয় কিসের? আপনাদের নিরাপত্তা দেশের জনগণ দেবে। নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কবে হবে, আদৌ হবে কি না—সেটি নিয়ে একটি ধোঁয়াশা চলছে। সরকার স্পষ্টভাবে এখন পর্যন্ত রোডম্যাপ পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি। এখন পর্যন্ত আমরা জানি না আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে, নাকি আরেকটি ১/১১ ফিরে আসবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের স্পষ্ট কথা, আমরা বাংলাদেশে ১/১১ ফিরে আসতে দেবো না। আওয়ামী লীগকে ফিরে আসতে দেবো না। আমরা চাঁদাবাজি দখলদারত্বমুক্ত রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। কিন্তু অনেকেই আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখনও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগ একটি বিষধর সাপ। তাদের লালন-পালন করলে এমন ছোবল মারবে কেও বাঁচতে পারবে না। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এখনও আওয়ামী লীগের ডামি সংসদ সদস্যরা ঘুরে বেড়াচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সরকারকে। আমরা যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই করেছি—আমরাই আগামীর সরকার গঠন করব।
প্রভাষক মো. সাখায়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর রবিউল ইসলাম লাবলু, অসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহব্বত হোসেন টিপুসহ অনেকে।
উপস্থিত ছিলেন- ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল আলিম, জেলা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. ইব্রাহীম রহমান বাবু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।