গণপিটুনিতে নিরব হত্যা নিয়ে নতুন তথ্য জানাল পুলিশ
ঝিনাইদহে জুলাইযোদ্ধা ফারদিন আহম্মেদ নিরব হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। দাবি করা হয়েছে ঘটনাস্থলে নিরবের মৃত্যু হয়নি। আহত হওয়ার পরে জেলা শহরের ব্যাপারীপাড়ায় নিজ মেসে চলে আসেন তিনি। সেখানে অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ আজ সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে। গ্রেপ্তার করা বৈষম্যবিরোধি ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের নিয়ে পুলিশের বক্তব্যও স্পষ্ট হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তার ধারাবাকিতায় কিছু মানুষ আতংকিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার চেষ্টা করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭ মার্চ রাত অনুমান ৮টা ২০ মিনিটে ফরদিন আহম্মেদ নিরব (২২) ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গেলে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে তর্কবির্তক হয়। একপর্যায়ে ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সে সময় ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা আঘাত করলে নিরব আহত হন। এরপর তিনি (নিরব) মেসে চলে যান। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসারত অবস্থায় সেখানে মৃত্যু হয় তার।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের সহায়তায় তিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জনানো হয়। নিহত নিরব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখার একজন সদস্য ছিলেন। তিনি নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল তাজ ফিলিং স্টেশনে জড়ো হয় এবং বিক্ষোভ প্রর্দশন করে। পুলিশের সক্রিয় ভূমিকায় সেখান থেকে সরে গিয়ে আরাপপুর অবস্থিত একই মালিকের সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটতরাজ চলায়। একই সঙ্গে রাত অনুমান ৩টা ১৫ মিনিটে বাস টার্মিনালে পার্কিংয়ে থাকা দুটি ঢাকাগামী কোচ ও একটি লোকাল বাস ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়। অগ্নিসংযোগ করা তিনটি বাসের মধ্যে জে লাইন বাসটির মালিক ও তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিক একই ব্যক্তি।
বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মো. সাইফ নোমানের লিখিত অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা করা হয় (নম্বর-১৮, তারিখ ৮ মার্চ) এবং সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় আরও একটি পৃথক মামলা হয় (মামলা নং ১৯)।
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. শামসুল কবির মিলন বাদী হয়ে মামলা করেন।
এরপর নিবিড় তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের সাত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিজানুর রহমান, ঝিনাইদহ