মেয়ের হাতে মা খুন, তদন্তে পুলিশ
যশোরের কেশবপুর পৌর শহরের সাহাপাড়ায় বৃদ্ধা গৌরী রানী (৭০) খুন হওয়ার ঘটনা তদন্তে নেমেছে পুলিশ। গত সোমবার গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার মৃত কালীপদ অধিকারীর স্ত্রী।
গত সোমবার দিনগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মৃত কালীপদ অধিকারীর বাড়িতে চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যায়। এ সময় প্রতিবেশীরা নিহত গৌরী রানীর মেয়ে দীপ্তি অধিকারীকে (৫৫) অনেকটা বিবস্ত্র অবস্থায় ছাদে ঘোরাঘুরি করতে দেখে। ধারণা করা হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই তাকে হত্যা করেন তিনি।
এরপর গতকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে বাড়ির ভেতর গৌরী রানীর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে অভিযুক্ত দীপ্তি রানীকে বাথরুমের ভেতর থেকে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে।
গৌরী রানীর স্বামী তার জন্য একটি দোতলা বাড়ি এবং প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের তিন শতক জমি রেখে গিয়েছিলেন। তবে তিন ছেলে ও এক মেয়ের জননী হয়েও শেষ বয়সে চরম অবহেলায় দিন কাটত এই বৃদ্ধার। তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলে চাকরির সুবাদে বাইরে থাকেন এবং ছোট ছেলে স্বপন পাশে আলাদা সংসার নিয়ে থাকলেও মায়ের দেখাশোনা করতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দীপ্তি রানীও শিক্ষিতা। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। ঘটনার রাতে বাড়িতে মা ও মেয়ে ছাড়া আর কেউ ছিল না।
সম্পদ থাকলেও দেখার কেউ ছিল না গৌরী রানীর। একদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের ভার, অন্যদিকে ছেলেদের অবহেলা—সব মিলিয়ে এক করুণ পরিণতি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই কোনো উসকানি ছাড়াই দীপ্তি রানী তার মায়ের ওপর আক্রমণ চালিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় দাস বলেন, আমরা খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহত গৌরী রানীর কপাল ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি বটি উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।
সঞ্জয় দাস আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত দীপ্তি রানীকে আমরা হেফাজতে নিয়েছি। তবে তাকে আটকের সময় আমরা সম্পূর্ণ অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় পাই। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)